অবশেষে, দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শবনম ফেরদৌসীর ‘আজব কারখানা’। শুক্রবার পাঁচ প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। ৪০টিরও বেশি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করলেও ‘আজব কারখানা শবনম ফেরদৌসীর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ফিকশন চলচ্চিত্র।
একজন রকস্টারের জীবনকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ‘আজব কারখানা’ সিনেমার গল্পটি। গ্রামবাংলার বাউল শিল্পীদের সংস্পর্শে এসে নিজের জীবনের নতুন অর্থ খুঁজতে শুরু করেন এই রকস্টার। গল্পে আবহমান বাংলার বিভিন্ন গানের ধারা, ঘরানা ও মর্মবাণী তুলে ধরা হয়েছে। উঠে এসেছে শিল্পীর জীবন-সংগ্রামের কথা।
সিনেমার গল্প নিয়ে পরিচালক শবনম ফেরদৌসী বলেন, মানুষের অস্তিত্ব, কর্মকাণ্ড—সবটাই তো আজব। বিষয়গুলোকে একজন শিল্পীর জীবন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছি। একজন রকস্টারের সঙ্গে বাংলাদেশের লোকশিল্পীদের দেখা হয়, প্রান্তিক পর্যায়ের এই শিল্পীদের জীবনধারা উঠে আসে ছবিতে। তিনি আরও জানান, এই সিনেমার শহর থেকে গ্রাম- দুই জীবনের চিত্রপট থাকায় টিম ‘আজব কারখানা’কে ছুটতে হয়েছে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ‘আজব কারখানা’র রকস্টার। এই ছবির মাধ্যমে র্যাম্প মডেল শাবনাজ সাদিয়া ইমির অভিষেক হচ্ছে বড় পর্দায়। এতে আরও অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল, খালিদ হাসান রুমি, সেলিম বয়াতি, দিলু বয়াতি, কিতাব আলী, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, অর্পণ, মায়মুনা মম ও মাহরিন মান্যসহ অনেকে।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন প্রযোজক-পরিচালক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সামিয়া জামান। ‘আজব কারখানা’য় পাঁচটি মৌলিক গান রয়েছে। এরমধ্যে কবি হেলাল হাফিজের চারটি কবিতাকে গানে রূপ দেয়া হয়েছে। তিনটি গানের সংগীতায়োজন করেছে ভাইকিংস ব্যান্ড, আরেকটির সুর-সংগীত লাবিক কামাল গৌরবের।

‘আজব কারখানা’ নিয়ে প্রযোজক সামিয়া জামান বলেন, স্বাধীন ধারার যে চলচ্চিত্র, তাতে পরিচালককেই প্রযোজকের ভূমিকা পালন করতে হয়। এই ট্রেন্ড এখন বিশ্বজুড়েই চলছে। যদিও আমরা প্রযোজক বলতে যিনি বিনিয়োগ করেন, পুরো ব্যবস্থাপনায় থাকেন, তাঁকে বুঝি। আমি বহু নাটক-সিরিয়াল প্রযোজনা করেছি, অনেক বছর ধরে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত আছি। শবনম ফেরদৌসী যখন আমার কাছে আসে, গল্প-চিত্রনাট্য ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সরকারি অনুদানের আবেদন করি এবং প্রযোজকের দায়িত্ব নেই।
এরিমধ্যে বিশ্বের ১৫টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে ‘আজব কারখানা’। পাঁচ পুরস্কারও জিতেছে। ২০২২ সালে ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘এশিয়ান সিলেক্ট: নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড’ শাখায় প্রদর্শিত হয় এটি। একই বছরের জানুয়ারিতে ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানোরমা শাখায় দেখানো হয় সিনেমাটি। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সেও প্রদর্শিত হয় ‘আজব কারখানা’।

রাজধানীসহ দেশের যে পাঁচ সিনেমা হলে ১২-১৮ জুলাই চলবে ‘আজব কারখানা’ সেগুলো হলো, বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে সকাল ১১টা ৩০ মিনিট ও বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট। মিরপুর সনি স্কয়ার স্টার সিনেপ্লেক্সে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট। কেরাণীগঞ্জের লায়ন্স সিনেমা হলে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট। এছাড়াও যমুনা ব্লকবাস্টার ও চট্টগ্রামের সিলভার স্কীনে সিনেমাটি চলবে।
