রুশ ভূখন্ডের আরও ভেতরে ঢুকে পড়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। এর জেরে রাশিয়া বৃহস্পতিবার সীমান্ত অঞ্চল থেকে আরও হাজার হাজার লোককে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, ঝড়ো গতির আক্রমণ চালিয়ে রাশিয়ার আরও গভীরে ঢুকে গেছে তাদের সেনারা। মস্কোর পাল্টা আক্রমণকে বাধাগ্রস্থ করতে হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কিয়েভের সেনা কর্মকর্তারা।

এই পরিস্থিতিতে কুরস্কের আরও একটি জেলা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে রাশিয়া। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,ইউক্রেনের সৈন্যদের অগ্রগতির কারণে এবং বেলগোরদে জরুরি অবস্থা বহাল থাকায় এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুরস্ক অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর অ্যালেক্সেই স্মিনভ বৃহস্পতিবার এক নির্দেশনায় বলেছেন, গ্লুশকভ জেলা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে সরে যেতে হবে।
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ বুধবার কুরস্কের বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।সেই সঙ্গে তাদের মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ইউক্রেনের পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় ফেসবুকের এক পোস্টে জানিয়েছে, কুরস্ক অঞ্চলের সব নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়া হবে এবং সেসঙ্গে জানানো হয়,ইউক্রেন আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সব কিছু করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সার্বভৌম রুশ ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় বিদেশি আক্রমণটি ৬ অগাস্টে ছড়িয়ে পড়ে।হাজার হাজার ইউক্রেনীয় সেনা রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়লে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যান রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্তারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন,তার বাহিনী কুরস্ক অঞ্চল থেকে শতাধিক রুশ সেনাকে আটক করেছে।
গত সপ্তাহে আকস্মিক হামলার মুখে পড়ে কুরস্ক।অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সরিয়ে নেয়া হয়বাসিন্দাদের। জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে বেলগোরদেও। ঠিক কতখানি এলাকার দখল নিয়েছে তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন। এ পর্যন্ত কুরস্কের ৭৪টি গ্রাম দখলের দাবি করেছে কিয়েভ সেনারা। কিয়েভ জানায়,গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে সেনারা।

এরিমধ্যে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের অভিযান দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়াল। গত সপ্তাহে রাশিয়ার সীমান্ত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ইউক্রেনের সেনারা।২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় অর্জন কিয়েভের। যদিও,এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি মস্কো।
