কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ব্যক্তি এবং পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি জানতে চায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিআইডি বিভাগ।
কলকাতা সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাংলাদেশে গ্রেপ্তার আসামিদের ভারতে নিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই তাদের এই যোগাযোগ বলে সূত্র জানিয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট মোট ১০১ জন সাক্ষী ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ২৬৩ পৃষ্ঠার প্রথম চার্জশিট আদালতে জমা দেয় পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। আনার হত্যার মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত আদালত।
আনোয়ারুল আজিমের হত্যাকাণ্ডে কলকাতায় আটক দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিআইডি।
রাজ্য পুলিশের এক অফিসার জানান, বাংলাদেশে আনোয়ারুল আজিমের হত্যাকাণ্ডে পুলিশের তদন্তের বিষয়ে জানতে চেয়ে নবান্নের (রাজ্য সরকারের সচিবালয়) মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাছে ওই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের পুলিশ সিআইডির ওই আর্জি পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কবে তার উত্তর মিলবে, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানতে পারেননি।
এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয় জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন, শিমুল ভূইঁয়া, তানভীর ভূইঁয়া, সিলস্তি রহমান, কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু, ফয়সাল আলী সাহাজী ও মোস্তাফিজুর রহমান। ঝিনাইদাহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু আদালতে জবানবন্দি দেননি। তিনি রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।
কেন বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের তদন্তকারীরা?
সিআইডি সূত্রের খবর, এ রাজ্যে দু’জন গ্রেপ্তার হলেও ওই মামলার বাকি অভিযুক্তরা বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জানা দরকার খুনের মোটিভ কী। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মামলার মূল হোতা আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিন বাংলাদেশের সংসদ সদস্যকে খুনের জন্য আমানুল্লাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। তার তত্ত্বাবধানেই ফয়সাল ও মোস্তাফিজুরকে রোগী সাজিয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। আমানুল্লা এবং শাহিনের নির্দেশেই সিয়াম কসাই জিহাদকে মুম্বই থেকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলো।
এক তদন্তকারী জানান, এখানে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদ এবং সিয়াম অনেক তথ্য দিয়েছে। তার সঙ্গে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বয়ান মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে তদন্তে ওই দেশের পুলিশ কী পেয়েছে, তা জানা দরকার। তাই পুরোটা জানার জন্যই বাংলাদেশে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
গত ১২ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।
এরপর ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।
খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়। তবে এই সংসদ সদস্যের মরদেহ বা দেহাংশ এখনও মেলেনি।
১২ মে সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
আনার হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ সেপ্টেম্বর