ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চেয়ার টলমল করে দেওয়ার পর, বিজেপি প্রধানের পদত্যাগের দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ওরা দেশের লজ্জা। মোদী মেয়েদের রক্ষা করতে পারেননি, আমরা ইতিহাস গড়লাম।
মঙ্গলবার ধর্ষণ বিরোধী আইন পাশকে ঘিরে বিধানসভায় উত্তপ্ত হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশের লজ্জা আখ্যা দিয়ে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । পাল্টা বিজেপি বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভ দেখায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি করে।
পরে মিছিল করে ধর্মতলার দরিনা ক্রসিং এ বিজেপির ধর্ণা মঞ্চ পর্যন্ত যান তারা। দুপুরে অপরাজিতা বিল প্রসঙ্গে মমতা বললেন, এই বিল একটা ইতিহাস! প্রধানমন্ত্রী পারেননি। আমরা পারলাম। করে দেখালাম। প্রধানমন্ত্রী দেশের লজ্জা! উনি মেয়েদের রক্ষা করতে পারেননি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।
বিল উত্থাপনের সময় গুজরাট এবং উত্তরপ্রদেশে ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদে বিজেপি বিধায়কেরা চিৎকার করতে শুরু করেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা চলাকালীনই পদত্যাগের দাবি করেন বিরোধীরা। মমতা তাদের জবাব দিয়ে হুঙ্কার দিয়ে বললেন, আগে নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ চাই। তার পরে বাকি কথা।

রাজ্যের আইন পরিবর্তনের ক্ষমতা সম্পর্কে বিভিন্ন স্তরেই প্রশ্ন উঠছিলো, সেই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলছে আমরা আইন করতে পারি না। আমি তাদের বলছি, সংবিধান আমাদের অধিকার দিয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র আইন আনছে। রাজ্যপাল বিলে সই করবেন আশা রাখছি। হাতজোড় করে বলছি নারীদের কথা, মা-বোনদের কথা শুনুন। ভারতীয় সংবিধান মেনে এ সংশোধন আমরা আনতেই পারি।
সেই সঙ্গে অপরাজিতা আইন নিয়ে তিনি আরও বলেন, মূল আইনের সবটা তো পরিবর্তন করছি না, কিছু করছি। এই বিলের তিনটি বিষয় আছে, তা হল বর্ধিত শাস্তি, দ্রুত তদন্ত এবং দ্রুত ন্যায় বিচার।

নির্যাতিতাদের সাহায্যার্থে নির্ভয়া ফান্ড চালু করা হয়েছিল, সেই নিয়ে মমতা বিধানসভায় বলেন, ১০৮ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা কেন্দ্রের কাছ থেকে আমাদের দেয়ার কথা, তার মধ্যে এখনও ২৬ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা বাকি আছে। পাশাপাশি ধর্ষণ রোধে কড়া আইন না করার জন্য মোদী ও শাহের পদত্যাগও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে প্রতীকী মেরুদণ্ড নিয়ে কলকাতা পুলিশের হেড কোয়ার্টার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের সঙ্গে দেখা করতে লালবাজারে যান আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ২২ জনের প্রতিনিধিদল। সোমবার থেকে যে প্রতীকী মেরুদণ্ড নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁরা, সেটিকেও সঙ্গে নিয়ে যান লালবাজারে।
বিভিন্ন সূত্রের খবর, চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদলের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে তাঁরা হেঁটেই লালবাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কলকাতার আদালত চত্বরে থাপ্পড় খেলেন সন্দীপ
লালবাজার অভিযান ঘিরে আবারও অগ্নিগর্ভ কলকাতা