মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, নেতানিয়াহু এবং জায়নবাদী ইসরাইলের অন্য অপরাধী নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
সোমবার ইরানের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী 'বাসিজে'র এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। খবর তেহরানভিত্তিক প্রেসটিভি'র।
খামেনি বলেন, মানুষের ঘরবাড়িতে বোমাবর্ষণকে বিজয় বলে না। বোকা ইহুদিবাদীরা যেন এটা না ভাবে যে তারা মানুষের ঘরবাড়িতে, হাসপাতালে, জমায়েতস্থলে বোমাবর্ষণ করছে বলেই বিজয়ী হয়ে গেছে। বিশ্বের কেউ এটাকে বিজয় বলে মনে করে না।
তিনি আরও বলেন, শত্রুরা গাজা ও লেবাননে বিজয়ী হয়নি। শত্রুরা গাজা ও লেবাননে বিজয়ী হতে পারবে না।

লেবানন, গাজা ও ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের মাধ্যমে তারা যা করতে চায় ফলটা তার উল্টো হবে দাবি করে তিনি বলেন, অর্থাৎ প্রতিরোধ সংগ্রাম আরও শক্তিশালী ও জোরদার হবে। এটা একটা সার্বিক ও অপরিবর্তনশীল নিয়ম।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমি বলি বর্তমানে প্রতিরোধ ফ্রন্ট যতটা সম্প্রসারিত হয়েছে, আগামীতে তা আরও কয়েক গুণ বাড়বে।
আমেরিকা এই অঞ্চলে নিজের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ইরানে স্বৈরশাসন, একনায়কতন্ত্র, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় অভিযোগ করে খামেনি বলেন, ইরানের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের বিশেষ দু'টি বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাস। এই দুই বৈশিষ্ট্য নিশ্চিতভাবে সাম্রাজ্যবাদের ওপর বিজয় নিশ্চিত করবে।

সবশেষ গেলো বৃহস্পতিবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং দখলদার রাষ্ট্রটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। একইসঙ্গে ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যদিও গত জুলাইয়ে দেইফকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তেল আবিবের।
আইসিসির বিচারকরা বলেছেন, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধের সময় কথিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এই তিন ব্যক্তির "অপরাধের দায়" বহন করার "যুক্তিসঙ্গত কারণ" ছিলো।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, রাশিয়া, বাংলাদেশ, চীনসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। অন্যদিকে সরাসরি এ গণহত্যাকে সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ।
আদানির বিরুদ্ধে এবার সমন জারি করলো আমেরিকা
ইসরাইলি ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর নজিরবিহীন হামলা