নারায়ণগঞ্জে গভীর রাতে একটি বাড়িতে হঠাৎ বিস্ফোরণে নারী, শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আট জনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, দগ্ধ সবার জীবনই সঙ্কটে। তাদের মধ্যে তিন জনের শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আগুনের কারণ হিসেবে বলছেন গ্যাস লাইনের লিকেজ অথবা বৈদ্যুতিক শট সার্কিট। তবে তারা নিশ্চিতভাবে কিছু জানায় নাই।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার হীরাঝিল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন- তানজিল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫) তাদের দুই সন্তান তৃষা আক্তার (১৭) ও আরাফাত (১৫)। এছাড়া হাসান (৩৫), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩২) ও তাদের তিন সন্তান ইমাম উদ্দিন (১ মাস), জান্নাত (৪) ও মুনতাহা (৮) দগ্ধ হন।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, রাত তিনটার দিকে হাসানের টিনসেড সেই বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দগ্ধদের উদ্ধার করেন তারা।
তাদের দাবি, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই আগুনের ঘটনা ঘটে। লিকেজের খবর আগেও বাড়ির মালিককে জানানো হয়েছিল। তবে সমাধান না পেয়ে সামনের মাসেই এই বাড়িটি ছেড়ে অন্য একটি বাড়িতে ওঠার কথা ছিলো তাদের।
হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আহমেদুল কবির চৌধুরী জানান, হাসানের শরীরের ৪৪ শতাংশ, জান্নাতের ৪০ শতাংশ, মুনতাহার ৩৭ শতাংশ, সালমার ৪৮ শতাংশ, ইমামের ৩০ শতাংশ, আরাফাতের ১৫ শতাংশ, তৃষার ৫৩ শতাংশ, আসমার ৪৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তানজিল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মিরন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রিজে সরাসরি বৈদ্যুতিক লাইন দেওয়া ছিল। বৈদ্যুতিক লাইনের শর্ট-সার্কিট থেকে প্রথমে আগুন ধরে যায়, সেই আগুন থেকে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, আমরা আশপাশে কিংবা ঘরের ভেতরে অন্য কোনও ধরনের গ্যাসের আলামত পাইনি। সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকেই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।
