শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এবারও দেশের ১৩টি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে ‘সনাতন বন্ধুরা সনাতন মানুষের পাশে’ নামে একটি ভার্চুয়াল সংগঠন। সংগঠনটির সদস্যদের নিজেদের অর্থায়নে জেলাগুলো ঘুরে মানুষের হাতে পূজার উপহার হিসেবে বস্ত্র তুলে দিয়েছেন।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মুখপাত্র রাজীব মজুমদার জানান, গত ২০ জুলাই থেকে সংগঠনের সবার সিদ্ধান্তে ফান্ড সংগ্রহ শুরু হয়। পরে এক সেপ্টেম্বর থেকে হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, ফেনী, রংপুর, কক্সবাজার. গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, সন্দীপ, নড়াইল, ঢাকা, ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ জেলার সদরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে উপহার হিসেবে ৬৬০ জনের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।

রাজীব বলেন, কারো একার পক্ষে হয়ত ১০ জনকে সহযোগিতা করা সম্ভব। কিন্তু সম্মিলিতভাবে এর পরিধি হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমাদের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে। সমাজের মানুষ এগিয়ে এলো কোনো উৎসবই দেশের মানুষের নিরানন্দ কাটবে না।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংগঠনের সদস্য শুভাশীষ চৌধুরী, অমিত ভূঁইয়া, কল্যাণ সরকার, জীবন দাশ, সজল সাহা, শুশাংকর, সুদীপ এবং প্রশান্ত ভৌমিক জানান, বন্ধুদের মাধ্যমে বিভিন্ন রিমোট এলাকার খোঁজ-খবর নিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এটি বাস্তবায়ন করতে আমরা ঘুরেফিরে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছি। রাত-দিন ঘুরে বিভিন্ন চা বাগান, সুন্দরবনের পাশে অবহেলিত গ্রামে, বিভিন্ন নদীর চর থেকে আসা মানুষের কথা শুনেছি এবং তাদের মধ্যে আমাদের সামান্য ভালবাসা তুলে দিয়েছি।

পলাশ পাল, সঞ্জয় সাহা, শ্রাবণী সাহা এবং শীবেন রয় জানান, নিজের অর্থায়নে যতোটুকু সম্ভব মানুষের কাছে ভালোবাসা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবো।
সজীব দাস, তুহিন, নোটন, শ্যামলী, ডালিমসহ আরও অনেকেই বলেন, সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনটির ব্রত। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের এই উদ্যোগ চালু আছে, ভবিষ্যতেও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

শেষে গ্রুপ অ্যাডমিন রাজীব মজুমদার, দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা সংগঠনটির সদস্য নিতীশ, দিপ্তী, পুস্পেল, অসিত সাধু, সজীব, শীলা, জুনি, মৃত্যঞ্জয়, ইলা, বাসুদবে,অলক, মলি, লিপি, ডালিয়া, ধীমান, বিপ্লব ,শিল্পী, পূর্ণ, দেববত্র, দিপা, সুবর্ণা, ইতালী প্রবাসী সোহাগ, লন্ডন প্রবাসী অঞ্জন, আমেরিকা প্রবাসী চম্পা, ওমান প্রবাসী অজিত, কুয়েত প্রবাসী শিমুল, তুষার, অমিত, সমীর, জেমস, লিপি, সুমন, ডালিম, সজল, রনি, হৃদয়, মিলন, অপর্ণা, রঞ্জনসহ গ্রুপের সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং আগামীতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
