বৃহস্পতিবার রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি হোটেল ও ক্যাফেতে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বেসামরিক নাগরিকরা সেখানে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করতে সমবেত হয়েছিলেন।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সাধারণত রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বিভিন্ন শহরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইমেইলে অনুরোধ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
খেরসন অঞ্চলের রুশ-নিযুক্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো প্রথম এই হামলার অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদরা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ অভিযোগ আনেন। সালদোর প্রেস সার্ভিস হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির কিছু ছবি প্রকাশ করলেও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে একটি সাদা চাদরের নিচে অন্তত একটি মৃতদেহ দেখা গেছে। এছাড়া ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন এবং মাটিতে রক্তের দাগ পরিলক্ষিত হয়েছে।
সালদো এক বিবৃতিতে জানান, উপকূলীয় গ্রাম খোরলিতে নববর্ষ উদযাপন চলাকালে ইউক্রেনের তিনটি ড্রোন আঘাত হানে। তিনি একে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একটি ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে অভিহিত করেন এবং জানান যে, অনেক মানুষ জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ২৪ জন নিহত হয়েছেন (যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে) এবং আরও ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো সন্দেহ নেই যে হামলাটি আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যেখানে সাধারণ মানুষ নববর্ষ উদযাপনে জড়ো হয়েছিলেন, ড্রোনগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেখানেই আঘাত হেনেছে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে বলেন, মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রতিশোধ নেবে। হামলার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে এই হামলার জন্য ইউক্রেনের পশ্চিমা সমর্থকদের দায়ী করেন। এছাড়া রাশিয়ার পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের স্পিকারসহ শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা কিয়েভের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
খেরসন ইউক্রেনের সেই চারটি অঞ্চলের একটি যা ২০২২ সালে রাশিয়া নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করেছিল। কিয়েভ এবং অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে অবৈধ ভূমি দখল হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে।
পুতিনের বাসভবনে হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিলো ইউক্রেন ও ইইউ
‘আইএস বধু’ শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলে অটল ব্রিটিশ সরকার