কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর প্রাক্তন স্ত্রী সারাহ ফার্গুসন (যিনি ‘ফার্গি’ নামে পরিচিত) এবং তাদের দুই কন্যার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কয়েকশ ই-মেইলে দেখা গেছে, ২০০৮ সালে নাবালিকা পাচারের দায়ে এপস্টাইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও, সারাহ তার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
এপস্টাইনের প্রতি সারাহর ছিলো গদগদ ভালোবাসা। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, সারাহ ফার্গুসন এপস্টাইনকে ‘আমার কাঙ্ক্ষিত ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন।

২০০৯ সালের একটি ই-মেইলে তিনি লেখেন, জেফরি, আমার মেয়েদের সামনে তুমি আমার যে প্রশংসা করেছ, তাতে আমি অভিভূত। তোমার মতো একজন বন্ধু পেয়ে আমি ধন্য। এমনকি অন্য এক ই-মেইলে তিনি এপস্টাইনকে ‘লিজেন্ড’ আখ্যা দিয়ে রসিকতা বা ভালোবাসার ছলে লেখেন, আমি তোমার সেবায় নিয়োজিত। আমাকে বিয়ে করে নাও।
নথিগুলো সারাহর ভঙ্গুর আর্থিক অবস্থার চিত্রও তুলে ধরেছে। ২০০৯ সালে একটি ব্যাবসায়িক পতনের পর তিনি এপস্টাইনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার পাউন্ড ভাড়ার অর্থ চেয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, টাকা না দিলে বাড়িওয়ালা সংবাদপত্রের কাছে সব ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। নথিপত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এপস্টাইন প্রায় ১৫ বছর ধরে সারাহকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন।

ই-মেইলগুলোতে দেখা যায়, এপস্টাইন সারাহ ফার্গুসনকে ব্যবহার করে নিজের ‘পেডোফাইল’ বা শিশু যৌন নিপীড়কের তকমা মোছার চেষ্টা করেছিলেন। এপস্টাইনের পক্ষ থেকে তার জনসংযোগ কর্মকর্তাকে লেখা ই-মেইলে বলা হয়, ফার্গি এখন বলতে পারেন যে আমি পেডোফাইল নই, বরং তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। সারাহ নিজেও এপস্টাইনকে কথা দিয়েছিলেন, নিজের ব্র্যান্ড বাঁচাতে তিনি তাকে প্রকাশ্যে কোনো কটু কথা বলবেন না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই কন্যা প্রিন্সেস বিয়াট্রিস এবং ইউজেনিউ এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। একটি ই-মেইলে ইউজেনিউর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া এপস্টাইনের সঙ্গে সারাহ ও তার দুই মেয়ের লাঞ্চ মিটিং এবং রাজকীয় প্রাসাদে (বাকিংহাম প্যালেস ও উইন্ডসর ক্যাসেল) এপস্টাইনের প্রবেশের সুযোগ করে দেয়ার প্রস্তাবও ই-মেইলগুলোতে উঠে এসেছে।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু বরাবরই কোনো ধরনের অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে আসছেন। তবে এই নতুন নথিগুলো ‘ইয়র্ক’ রাজকীয় পরিবারের ভাবমূর্তিকে অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অ্যান্ড্রু ইতোমধ্যে তার রাজকীয় উপাধি এবং সুযোগ-সুবিধা হারিয়েছেন। ফার্গুসনকেও তার বর্তমান বাসস্থান ‘রয়্যাল লজ’ ছাড়তে হতে পারে। অনেক চ্যারিটি সংস্থা এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তাকে বয়কট করেছে।
এই নথিপত্র ফাঁসের পর ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- প্রিন্সেস বিয়াট্রিস ও ইউজেনিউ কি তাদের বাবা-মায়ের এই কলঙ্কিত ইতিহাস থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারবেন? যদিও ফাঁসের তালিকায় নাম থাকা মানেই অপরাধী হওয়া নয়, তবুও এই ই-মেইলগুলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য এক কালো অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাইয়ের অপরাধ কতটা সামাল দিতে পারবেন রাজা চার্লস, সেই প্রশ্নও উঠছে এখন।
‘ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরাইলে গিয়ে নেচেছেন-গেয়েছেন মোদী’
এপস্টাইন ফাইলসে মীরা নায়ার থেকে শুরু করে ইলন-বেজোসের নাম!