ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং কোনোভাবেই ১৭ ফেব্রুয়ারির পর এটি আর দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের আইনি আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রেস সচিব জানান, শপথের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সংবিধানের ১৪৮ (৩) ধারা অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বা অসমর্থতায় তিন দিন পর অর্থাৎ চতুর্থ দিন থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পাঠ করাতে পারেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদও এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কে শপথ পড়াবেন, তা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টিকে ‘স্মুথ ট্রানজিশন’ হিসেবে দেখছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা এবং পুরো মন্ত্রিসভা এই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সংসদ সচিবালয় ও বঙ্গভবন প্রস্তুত করার পুরো প্রক্রিয়াটি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সরাসরি তদারকি করছেন। ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশ মেরামত ও সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথ কক্ষ, অধিবেশন কক্ষ, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষসহ প্রয়োজনীয় সব দপ্তর এখন ব্যবহারের উপযোগী। প্রটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ গুছিয়ে এনেছে।
ব্রিফিংয়ে একটি কেন্দ্রে '২০০ শতাংশ ভোট' পড়ার সংবাদ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম একে 'মিথ্যা সাংবাদিকতা' বলে অভিহিত করেন। তিনি পরিষ্কার করেন, এটি মূলত একটি মুদ্রনজনিত ভুল ছিল যা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে কথা না বলেই প্রচার করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন এবং তিনিই নতুন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে ৬৮টি আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন