ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র চার সপ্তাহে মার্কিন সেনাবাহিনী ৮৫০ টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর মাত্র কয়েকশ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ফলে যে হারে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং কীভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের জোগান বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং প্রতিটির খরচ প্রায় ৩৬ লক্ষ ডলার। অথচ গত বছরের বাজেটে মাত্র ৫৭টি টমাহক তৈরির বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
একজন কর্মকর্তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কম। অন্য এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই হস্তক্ষেপ না করলে এই অঞ্চলে খুব শিগগিরই ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দেবে। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই পত্রিকাকে জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আসা হবে নাকি নতুন করে আরও তৈরি করা হবে, তা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে।

গোলাবারুদ নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
অবশ্য পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই উদ্বেগকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো সময় এবং যে কোনো স্থানে যেকোনো মিশন পরিচালনার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় সব কিছু রয়েছে। পার্নেল আরও যোগ করেন, সংবাদমাধ্যমগুলো বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে দুর্বল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও এই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র লক্ষ্য অর্জন এবং এর পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে।
গত ৫ মার্চ পেন্টাগন প্রধান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গোলাবারুদের কোনো ঘাটতি নেই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তারা এই অভিযান দীর্ঘকাল চালিয়ে যেতে সক্ষম। তবে প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহের গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

ক্ষতিপূরণে কয়েক বছর সময় লাগবে
'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ'-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, ৮০০-র বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
তার প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে প্রায় ৩,১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ব্যবহৃত এই ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং এরপর থেকেই এটি তাদের সামরিক শক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র ১,০০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা যায়। এর ফলে সুরক্ষিত আকাশসীমায় পাইলট পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা এবং ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
মার্কিন সেনাদের জন্য 'নরক' সাজিয়ে রেখেছে ইরান
দুবাইয়ের গোপন মার্কিন আস্তানায় ইরানের ভয়াবহ হামলা