ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত প্রায় তৃতীয় মাসে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তেই মিত্রদের সমর্থন আদায় এবং সংকট নিরসনের পথ খুঁজতে পাকিস্তান, রাশিয়া ও ওমান সফরে বেরিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যদিও বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে এখনো পাহাড়সমান বাধা রয়ে গেছে।

শনিবার সকালে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন আব্বাস আরাগচি। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাথে তাঁর বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, জেনারেল মুনির বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, আরাগচি কতদিন ইসলামাবাদে অবস্থান করবেন, তবে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতার ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
ট্রাম্পের প্রিয় ফিল্ড মার্শাল হিসাবে খ্যাত জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর আরাগচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একান্তে আলোচনা হয়। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংলাপের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিস্কার করেছেন আরাগচি।

পাকিস্তান সফর শেষ করে আরাগচির পরবর্তী গন্তব্য মস্কো এবং মাস্কাট। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেহরানের একজন একনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। এমনকি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাহারার দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছে রাশিয়া। অন্যদিকে, ওমান বরাবরই পর্দার আড়ালে থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দূতিয়ালি করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতেও ওমানি মন্ত্রীরা দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন। ফলে আরাগচির এই ত্রিদেশীয় সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
শনিবারই হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আমেরিকার সাথে সরাসরি আলোচনার খবর নাকচ করে দিয়েছে। এমনকি সিএনএন’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দফার আলোচনার প্রধান দুই মুখ, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, এই দফায় অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ফলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনাই এখন একমাত্র ভরসা।

ইসলামাবাদের এই দফার আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সুফল বয়ে আনবে, না কি আবারও পুরোনো অচলাবস্থায় ফিরে যাবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। একদিকে মিত্রদের সাথে তেহরানের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরাসরি আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে অনীহা, এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ২০২৬ সালের এই মহাযুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে আছে ইসলামাবাদ, মস্কো আর মাস্কাটের কূটনৈতিক টেবিলে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
