হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে মার্কিন বোমারু বিমান পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’-এর কাছে এক ভয়াবহ বিস্ফোরক চক্রান্তের নজির সামনে এসেছে। রোববার এই সংবেদনশীল বিমানঘাঁটির আশপাশ থেকে বিস্ফোরক আইনের আওতায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং সেনা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
ঘটনাটিকে একটি 'মেজর ইনসিডেন্ট' বা বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বেশ কিছু সন্দেহভাজন গাড়ি তল্লাশি করার পাশাপাশি আশপাশের গোটা এলাকা খালি করে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনের এই কৌশলগত বিমানঘাঁটিটি ব্যবহারের জন্য জুলাই মাসেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছিল যুক্তরাজ্য সরকার, যার মাধ্যমে ইরানি মিসাইল সাইটগুলোতে মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়। তবে এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, তাদের ওপর হামলার কাজে ব্যবহৃত যে কোনো ঘাঁটিই ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে গণ্য হবে।
রোববারের এই ভয়াবহ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে সার্বক্ষণিক আপডেট দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ছবি ও লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানঘাঁটির তিনটি বড় সাদা ভ্যানের কাছে বোমারু নিষ্ক্রিয়কারী রোবট কাজ করছে এবং সশস্ত্র কাউন্টার-টেররিজম পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে কড়া নিরাপত্তা সংকেত বাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, ওয়েলফোর্ড এলাকায় বহু বাড়ি খালি করা হয়েছে এবং সেনা বিশেষজ্ঞরা সন্দেহভাজন যানবাহনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করছেন।
মার্কিন বিমান বাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইউএস সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শুধু ফেয়ারফোর্ডই নয়, লেকেনহিথ ও মিলডেনহলের মতো অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সরাসরি ওই হুমকি ও ধ্বংসাত্মক চক্রান্তের পেছনে কোনো সাবোটাজ বা অন্তর্ঘাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের চরম তদন্ত শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
