দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ওই জঙ্গি হামলার দিন গুলশানে এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আব্দুল আহাদ। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত।
হোলি আর্টিজান বেকারি দখল করে মুহুর্মুহু গুলি করে জঙ্গিরা। নিহত হন ২২ জন, যাদের ১৭ জনই বিদেশি নাগরিক। দুজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছিলেন।
সেদিনের সেই ভয়াল হামলার খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান আব্দুল আহাদ। পুলিশের জনবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন জঙ্গি মোকাবিলায়। কিন্তু গুলিতে মারাত্মক জখম হন তিনি।
সেদিনের সেই ভয়াল রাতের ঘটনা একাত্তরের সাথে আলাপে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। জানিয়েছেন কীভাবে পুলিশের বলিষ্ঠ ভূমিকায় আজ নিয়ন্ত্রণে এসেছে জঙ্গিবাদ।
বিভীষিকাময় সেই রাতের তথ্য তুলে ধরে আব্দুল আহাদ বলেন, আমি সে সময় এডিসি গুলশান হিসেবে কর্মরত ছিলাম। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় বীরের মতো সামনে থেকে লড়ে শাহাদত বরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৩০ ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী বিসিএস ৩০ ব্যাচের পুলিশ ক্যাডারের রবিউল ইসলাম। বনানী থানার ওসি বনানী সালাউদ্দিনসহ আরও অনেক বিদেশী নাগরিক।
‘জঙ্গি হামলার খবর পেয়ে তৎকালীন ডিসি, গুলশান- মোস্তাক আহমেদ (বর্তমানে ডিআইজি) স্যারসহ কিছু অফিসার ও ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। হামলা প্রতিরোধে আমি গুরুতর আহত হই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে গ্রেনেড হামলার শিকার হই। এখনও শরীরে স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছি এবং দীর্ঘদিন দেশ বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে মোটামুটি সুস্থ হয়েছি,’ বলেন ওই কর্মকর্তা।

আহাদ বলেন, আজকের এই দিনে ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলায় নিহত শহিদ রবিউল, ওসি সালাউদ্দিনসহ সকলের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। বর্বরোচিত হামলা থেকে যারা বেঁচে গেছেন তাদের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গিবাদ দমনে সফল, স্যালুট বাংলাদেশ পুলিশ।
গুলশান হামলার পর জঙ্গি দমন অভিযান ব্যাপক গতি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বহু জঙ্গি গ্রেপ্তার হন।
হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার আলোচিত মামলার রায় হয় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর আলোচিত এ মামলার রায় দেওয়া হয়। হামলায় জড়িত থাকার দায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। খালাস পান একজন।
এরপর গত বছরের অক্টোবরে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নিম্ন আদালতে মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত সাত জঙ্গির সাজা পাল্টে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন হাই কোর্ট।
সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, আব্দুস সবুর খান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।
ভয়াল সেই হামলার আট বছর