ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করা জুলাই আন্দোলনে নিহত জসিম উদ্দিনের মেয়ে লামিয়ার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৭ এপ্রিল) সকালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ময়নাতদন্ত শেষ হবার পর, মৃতের চাচা চাচার কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেয়া হয়। এরপর মরদেহ পটুয়াখালীর দুমকিতে নেয়া হয়। সেখানে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
গত ১৮ মার্চ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নে কলেজছাত্রী লামিয়া নিজ বাড়ি থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে নিজেই বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন। এ ঘটনার পর লামিয়াসহ পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
গেলো ১৮ মার্চ পটুয়াখালীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হবার পর থেকেই মানসিক চাপে ছিল সে। চেয়েছিলেন ধর্ষকদের কঠিন শাস্তি। কিন্তু অপরাধীদের বিচার পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরার লড়াইটা হয়তো এই কিশোরীর সাধ্যে ছিলো না। শনিবার রাতে রাজধানীর শেখেরটেকের ভাড়াবাসায় মেলে তার ঝুলন্ত দেহ।

সামাজিক লজ্জা, চাপ ও নানা শঙ্কায় লামিয়া চরম হতাশায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেন স্বজনরা। মামলার পর আসামি সাকিব ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে দেয় দুমকি থানা পুলিশ। মামলাটি তদন্ত চলছে। তবে মামলা হবার পর আসামিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
রোববার সকালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নেয়া হয় আল মারকাজুল ইসলামে। সেখানে গোসলের আনুষ্ঠানিকতা সেরে নেয়া হয় পটুয়াখালির নিজ বাড়িতে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান তার স্বজন ও গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর সদস্যরা।
লামিয়ার পরিবার ধর্ষণে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার দাবি করেছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় লামিয়ার চাচা মোহাম্মদ সুলতান বলেন, লামিয়ার মৃত্যুর পেছনে জড়িত অপরাধীদের ফাঁসি চাই। লামিয়ার মতো যেন এমন কারও সাথে না হয়।

নিহত লামিয়ার মামা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের জুলাই আন্দোলনে আমার বোন স্বামীহারা হয়েছে। এখন মেয়েকে হারিয়েছে। আমার ভাগনির ধর্ষকরা জামিনে এসে গেছে। এখন সেও চলে গেছে। আমরা কার কাছে বিচার চাইব। কে বিচার করবে?
গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শহিদ জসীম উদ্দিনের মেয়ে তার বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে যাচ্ছিলেন। পথে নলদোয়ানী থেকে অভিযুক্তরা পিছু নেয়। হঠাৎ পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জলিল মুন্সির বাগানে নিয়ে যায় সাকিব ও সিফাত। এক পর্যায়ে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এমনকি তার নগ্ন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
মালয়েশিয়ায় কর্মী যেতে না পারায় দায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি: তদন্ত কমিটি