নিখোঁজের তিন দিন পর মিলি আখতার (৩০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মিলির স্বামী মানিককে আটক করে জিজ্ঞাবাদ করে পুলিশ।
মানিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার (৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে বাড়ির কাছে পুকুরের পাশে মাটি চাপা অবস্থায় মিলির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, পীরগাছা উপজেলার সেচাকান্দি গ্রামের আসাদ আলীর মেয়ে মিলি আখতারের সাথে পাশ্ববর্তী কুঠিয়াল পাড়া গ্রামের নুরুল আমিনে ছেলে মানিকের সাথে ১০ বছর আগে বিয়ে হয়।
বেশ কিছুদিন ধরে স্বামী মানিক ও তার বাড়ির লোকজন ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দিয়ে আসছিলো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনমালিন্য চলে আসছিলো।
পুলিশ জানায়, মানিক তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য প্রায়শই নির্যাতন করতো। বুধবার (১ জুন) রাতে স্ত্রীকে প্রচন্ড মারধর করলে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মিলি। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মানিক। এরপর রাতেই তাদের বাড়ির কাছে পুকুরের ধারে মাটি খুঁড়ে পুতে রাখে নিলিকে।
এ ঘটনাকে ধামা চাপা দিতে মানিক তার শশুড় আজিজুল ইসলামকে তাদের বাড়িতে গিয়ে জানায় তার স্ত্রী রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
এরপর মিলি আখতারের স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে কোন সন্ধান না পেয়ে তিনদিন পর পীরগাছা থানায় একটি সাধারন ডায়রী করে।
পুলিশ ডায়রী করার পর পরেই মানিকের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে মানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানিক স্বীকার করে তার স্ত্রী মিলি আখতারকে সে ও তার ভাই সহ স্বজনরা মিলে হত্যা করে লাশ বাড়ির কাছে পুকুরের ধারে পুতে রেখেছে।
পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, মানিকের জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মানিকের বাড়ির পুকুরের ধারে পুতে রাখা অবস্থায় নিহত মিলি আখতারের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, এঘটনায় এখনও মামলা দায়ের না হলেও মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একাত্তর/এসএ
