উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ফেরার পথে তাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমার থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ছোড়া হয়েছে অন্তত ২০-২৫ রাউন্ড গুলি। এতে কেউ হতাহত না হলেও ট্রলারে গায়ে গুলি লেগেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় টেকনাফের নাফ নদীর মোহনার কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনের জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শেষে ফেরার পথে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। এসময় সহকারী কমিশনার ভূমি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিং অফিসারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের একটি টিমও বোটে ছিলো। তবে সবাই নিরাপদে টেকনাফ পৌঁছেছেন।
টেকনাফ নির্বাচন অফিসের ইভিএমের কারিগরি দায়িত্বে থাকা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, আজকে মরতে মরতে প্রাণে ফিরেছি। সেন্টমার্টিন থেকে নির্বাচন শেষে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের কাছাকাছি নাফ নদীর মোহনায় পৌঁছলে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। এতে আমরা সবাই ভয়ে নিচের দিকে বসে পড়ি। পরে কোস্ট গার্ডের স্পিডবোট দ্রুত গতিতে চলে আসে এবং রক্ষা পাই। সেখানে আমাদের অনেক সিনিয়র কর্মকর্তারা ছিলেন।
সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ শওকত মুঠোফোনে জানান, আজ সেন্টমার্টিনগামী কয়েকটি ট্রলারকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের ওপার থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন যাত্রীও ছিলো। তবে কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমার সীমন্ত থেকে গুলি বর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে বিজিবি টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সেন্টমার্টিনে নির্বাচন শেষে ফেরার পথে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বহনকারী কোস্ট গার্ডের স্পিডবোট লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ হয়েছে। তবে কারা গুলিবর্ষণ করেছে, সেটি জানার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপেও শান্তিপূর্ণ ভোট