কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাতের আঁধারে শহীদ মিনার ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার গুণবতী ডিগ্রি কলেজের মাঠে থাকা শহীদ মিনারটিতে মহান একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানান কলেজ কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় লোকজন। এরপরই আনুমানিক রাত ২টার দিকে দুর্বৃত্তরা শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলে।
শুক্রবার সকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের লোকজন ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে দেখেন শহীদ মিনারের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে দুটি ভাঙা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার গুণবতী কলেজের শহীদ মিনার সাজানো হয়। রাত ১২টার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বিএনপিসহ কয়েকটি সংগঠন ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। রাত ২টার পর দুর্বৃত্তরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনারের দুটি স্তম্ভ ভেঙে ফেলে।

খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেন ও থানা পুলিশ। এছাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও গুণবতী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ রাজনৈতিক নেতারা শহীদ মিনার পরিদর্শন করেছেন।
গুণবতী ডিগ্রি কলেজের নৈশপ্রহরী সামছুল আলম বলেন, রাত ২টার পর শহীদ মিনারের দুটি স্তম্ভ ভাঙার আওয়াজ শুনেছি। কিছুক্ষণ পর সেখানে গিয়ে কাউকে দেখিনি।
গুণবতী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটি পক্ষ শহীদ মিনার ভেঙেছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ইউসুফ মেম্বার বলেন, দুর্বৃত্তরা গুণবতীর শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করতেই শহীদ মিনার ভাঙচুর করেছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান বলেন, শহীদ মিনার আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। রাতের আধারে শহীদ মিনারের দুটি স্তম্ভ ভেঙে ফেলায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
গুণবতী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, স্টাফ কাউন্সিলের সেক্রেটারি নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনে কাজ চলছে। তারা তদন্ত কাজ করবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় এখনই কারা শহীদ মিনার ভেঙেছে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় লোকজন এ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ধামরাইয়ে সাবেক ইউপি সদস্যকে চোখ উপড়ে-কুপিয়ে হত্যা
দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে খিলগাঁওয়ের আগুন