সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৫৪ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনাটি এখন দাঁড়িয়ে আছে কেবলই একটি অপচয়ের প্রতীক হয়ে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত। জমির মালিকদের দাবি—জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তারা জমি ছাড়বেন না। তাদের সাফ কথা, ‘জমি দিলে টাকা পাই না, সেতু দিয়ে কী হবে?’
উপজেলার সরাতৈল গ্রামে ফুলজোর নদীর শাখার ওপর এই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে এবং শেষ হয় ২০২১ সালের শেষ দিকে। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে সংযোগ সড়কের জমি নিয়ে রশি টানাটানিতে থমকে আছে পুরো প্রকল্প।
স্থানীয়রা বলছেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় মই বা বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে পথচারীদের। তাদের ক্ষোভ, পাঁচ বছর আগে সেতু তৈরি হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। সেতুটি চালু হলে আমাদের ১০ গ্রামের মানুষের অনেক দিনের কষ্ট দূর হতো।
সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের জন্য মোট ৩৭ শতাংশ জমি প্রয়োজন, যার একটি বড়ো অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন। জমির মালিক আশরাফুল ইসলাম জানান, তার ছয় শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পাঁচ বছরেও তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। একই অভিযোগ শাহনাজ বেগমেরও। তিনিসহ মোট আটজন মালিকের অভিযোগ, বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও টাকা না পাওয়ায় তারা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাঁচ বছর আগে সেতু তৈরি হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। অথচ এটি চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হতো, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বাড়তো।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ জানান, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণেই মূলত সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো ৩৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করতে প্রায় ৮২ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা বর্তমানে এই প্রকল্পে বরাদ্দ নেই। তাই জমির পরিমাণ কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
জটিলতার কারণে এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে দুইবার ঠিকাদার পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে মেসার্স বি.এইচ.বি এন্ড এলাই জেবি এন্টারপ্রাইজ কাজটি করছে, কিন্তু জমির মালিকদের বাধার মুখে তারা কাজ এগোতে পারছে না।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই ভূমি জটিলতা নিরসন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থের এই বিশাল ব্যয় কেবলই একটি অকেজো স্থাপনা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে।
