যে কোন নারীর জীবনে এসিড সহিংসতার শিকার হাওয়া এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। নিদারুণ কষ্ট আর হতাশা থেকে কাটিয়ে উঠতে তাদের দরকার তীব্র মানসিক শক্তির।
তেমনিই এক অদম্য সাহসী নারী প্যাট্রিসিয়া লেফ্রাঙ্ক। যিনি কাজ করছেন বিশ্বের এসিড সহিংসতার শিকার নারীদের নিয়ে। হয়েছেন একটি ফ্যাশন বইয়ের মডেলও।
বেলজিয়ামের নেভেলেস শহরের অদম্য সাহসী নারী প্যাট্রিসিয়া লেফ্রাঙ্ক। এসিড সহিংসতার সার্ভাইবার হিসেবে একটি ফ্যাশন বইয়ের মডেল হয়েছেন তিনি।
যা এসিড সহিংসতা নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করতে পারে।
প্যাট্রিসিয়া লেফ্রাঙ্ক বলেন, এসিড হামলার পর আমি নিজেকে এমনভাবে দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।
তিনি বলেন, এই ছবিগুলো পাঁচ-ছয় বছর আগে দেখলে আমি হয়তো আমার কান্নাকে কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না । আমি নিজের এই কুৎসিত মুখকেই এখন মেনে নিয়েছি।
২০০৯ সালে সাবেক প্রেমিকের হাতে এসিড হামলার শিকার হন লেফ্রাঙ্ক। তিন সন্তানের জননী লেফ্রাঙ্ককে এখনো পর্যন্ত এক’শটি অস্ত্র পাচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি কোমায় ছিলেন তিন মাস।
লেফ্রাঙ্কের উপর হামলাকারীর কারাদণ্ড হয়েছে৷ একসময় তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এই বেলজিয়ান নারীর। কিন্তু সেই সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরও তাকে উত্ত্যক্ত করতেন হামলাকারী।
একদিন ডেলিভারি ম্যানের বেশে বাড়িতে এসে লেফ্রাঙ্কের দিকে এসিড ছুড়ে মারেন তিনি। সেই হামলার পর তিন মাস কোমায় ছিলেন তিন সন্তানের মা প্যাট্রিসিয়া লেফ্রাঙ্ক।
এরপরও হার মানেননি তিনি। বরং দৃঢ় মানসিক শক্তি নিয়ে তার মতো হাজারো নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে ব্রিটিশ ফ্যাশন ফটোগ্রাফার র্যাঙ্কিন এবং অ্যাসিড সারভাইভারস ট্রাস্ট।

ব্রিটিশ আলোকচিত্রি র্যাঙ্কিন দাতব্য সংস্থা এসিড সারভাইভার্স ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল (এএসটিআই)-র নতুন প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘টেয়ার ক্যুচর’ নামের ল্যুকবুকের জন্য লেফ্রাঙ্কের ছবি তুলেছেন।
লেফ্রাঙ্ক বলেন, এই কাজটা আমাকে অন্যান্য কাজগুলোর থেকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। ফ্যাশন শিল্পে আমরা দেখতে পাই সবকিছু পারফেক্ট। এখানেই প্রথমবার আমরা মানুষকে সুন্দর বার্তা দিতে চাচ্ছি।
বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে নারীদের উপর এসিড সহিংসতার নেতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি। এসব নারীদের জন্য এই বইটি পরামর্শ সহায়ক বা দিক নির্দেশনা হিসাবে কাজ করবে।
প্রতি বছর বিশ্বে গড়ে দশ হাজার নারী এসিড সহিংসতার শিকার হয়। এসব নারীরা যেন দৃঢ় মানসিক শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, সেবিষয়ে আরও কাজ করতে চান প্যাট্রিসিয়া লেফ্রাঙ্ক।
বাংলাদেশের মানুষের মনের ছোঁয়াটা পাওয়া যায়: মমতা শঙ্কর