ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী আবারও আলোচনায় এসেছেন। তবে এবার কোনো নাটক বা সিনেমার কাজ নিয়ে নয়, বরং গত বছরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তাঁকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে তার লাগেজে মদের বোতল পাওয়া গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো সাক্ষাৎকার না দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই অভিনেত্রী।

প্রকাশিত সংবাদগুলোতে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেহজাবীন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল।
অভিযোগ ছিল, তাঁর লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেছে। সেই সময় তাঁর সঙ্গে নির্মাতা ও স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। কয়েক মাস আগের এই ঘটনাটি সম্প্রতি নতুন করে গণমাধ্যমে আসায় শোবিজ অঙ্গনে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মেহজাবীন চৌধুরী দাবি করেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি লিখেন, কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ করছি, আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনারা অনেকেই জানেন, কিছুদিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই পোস্টে মেহজাবীন বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নারী শিল্পীদের সম্মানহানির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণে তাঁর মতো অনেক অভিনয় শিল্পীকে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। মেহজাবীনের মতে, নারীরাই আজকাল সাইবার অপরাধীদের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পেছনের কুচক্রী মহলের পরিচয় তাঁর জানা নেই উল্লেখ করে মেহজাবীন জানান, তিনি শুধু তার কাজে মনোযোগী হতে চান। ব্যক্তিগত কুৎসা নয় বরং তাঁর কাজ নিয়েই যেন আলোচনা হয়, এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর। প্রতিকূল এই সময়ে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
মেহজাবীনের এই বলিষ্ঠ অবস্থান তাঁর ভক্তদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তবে বিমানবন্দরের সেই ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষেই কতটুকু সত্য ছিল, তা নিয়ে জনমনে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
