ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মুসলিম বিদ্বেষ নতুন কিছু নয়। নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যও দলটির আদর্শিক অবস্থান।
এমন মন্তব্য করে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দুত্ববাদকে সমর্থন আর মুসলিম বিদ্বেষকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে মোদী সরকার।
মহানবী হযরত মুহাম্মদকে নিয়ে বিজেপির বরখাস্ত হওয়া জাতীয় মুখপাত্র নূপুর শর্মার কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের অনেকেই তা মনে করেন।
২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বেড়েছে। আট বছর ধরেই উগ্র হিন্দুত্ববাদকে সমর্থন, মুসলিম বিদ্বেষকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বিজেপি।
জানুয়ারিতে ডানপন্থী হিন্দু মহাসভা পার্টির এক সিনিয়র সদস্য মুসলমানদের হত্যা করে রাষ্ট্র রক্ষার জন্য অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতিবাদে উত্তেজনা বাড়লেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিজেপি। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে ক্লাসরুমে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দিল্লি পর্যন্ত। জবাবে ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো বিজেপি সরকারের সমর্থনে পাল্টা সমাবেশ করে।
২০১৮ সালে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী, আশ্রয়প্রার্থীদের উইপোকা বলে কটাক্ষ করে, অনুপ্রবেশমুক্ত জাতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গো-রক্ষার নামে উগ্রবাদী হিন্দুরা অন্তত ৪৪ জনকে হত্যা করেছে। যার মধ্যে ৩৬ জনই ছিলেন মুসলমান।
২০১৯ সালে পার্লামেন্টে মুসলিম ছাড়া প্রতিবেশী তিনটি রাষ্ট্রের সংখ্যালঘুকে ভারতের নাগরিকত্ব দিতে আইন পাস করা হয়।
আরও পড়ুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলে চাকরি হারাল গুগল কর্মী
বিজেপির এমন কাণ্ডে ব্যাপক বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক নিন্দার জন্ম দেয়। ২০২০ সালে উত্তর প্রদেশে একটি বিতর্কিত আইনের মাধ্যমে আন্তঃধর্মীয় বিয়ের মাধ্যমে ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করা হয়।
এছাড়া, প্রতিনিয়ত বক্তব্যে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বিজেপির শীর্ষ থেকে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৩০ কোটি জনসংখ্যার ধর্মনিরপেক্ষে ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ বাস্তবায়ন করছেন নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি।
