দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। নিজ বাসায় বিশেষ সেবা ও যত্নে রাখা হয়েছে তাকে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হসপিস কেয়ার বলা হয়। এটি এমন এক চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে, রোগী তার অন্তিম মুহূর্তে থাকেন এবং সে সময় চিকিৎসার মাধ্যমে তার শারীরিক যন্ত্রণা এবং অস্বস্তি কমানো হয়।
জিমি কার্টারের বয়স এখন ৯৮ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী সাবেক প্রেসিডেন্ট তিনি। এই ডেমোক্র্যাট নেতা ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৮১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শনিবার, কার্টার সেন্টার এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্জিয়ার প্লেইনসে নিজ বাড়িতে হসপিস কেয়ার গ্রহণ করছেন আমেরিকার ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। প্রেসিডেন্টের প্রতি তার মেডিকেল টিম এবং পরিবারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তারা এই মুহূর্তে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের পাশে একান্ত সময় কাটাচ্ছেন।
৯৮ বছর বয়সী জিমি কার্টার সাম্প্রতিক সময় বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। আর চিকিৎসা গ্রহণ না করে নিজের অন্তিম মুহূর্ত পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ কারণে তাকে ভাষায় হসপিস কেয়ারে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।
১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করার আগে, জর্জিয়ার তৎকালীন গভর্নর হিসেবে খুব সামান্যই পরিচিত ছিলেন জিমি কার্টার। সেই নির্বাচনে জিমি জেরাল্ড ফোর্ডকে হারিয়ে নির্বাচিত হন। পরে অবশ্য ১৯৮০ সালের নির্বাচনে রোনাল্ড রিগ্যানের বিপরীতে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন। এই পরাজয়ের পরেই তিনি বিশ্বে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যমী হন।
এরপর ১৯৮২ সালে জিমি কার্টার এবং তার স্ত্রী রোজলিন মিলে কার্টার সেন্টার গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃত হিসেবে ২০০২ সালে নোবেল পায়। কার্টার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন কার্টার দম্পতি।
আরও পড়ুন: জ্বালানির দাম বাড়ায় অতিদরিদ্র হবে ১৪ কোটি মানুষ
জিমি কার্টার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক দুর্দশা চলছিলো। তাঁর শাসনকালেই ইরানে মার্কিন দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ জন কূটনীতিক ও নাগরিককে জিম্মি করা হয়। তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পর এই জিম্মি দশার অবসান হয়। অবশ্য ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে কার্টারের ভূমিকা ছিল। এর মধ্য দিয়ে মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্ভব হয়েছিল।
একাত্তর/এসজে
