জলবায়ু পরিবর্তন এবং এল নিনোর প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনের কারণে এবছর বা আগামী বছর বিশ্বে গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
জলবায়ু মডেলগুলো ধারণা দিচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা আবহাওয়া ধরন টানা তিন বছর থাকার পর চলতি বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছর বিশ্ব এল নিনোতে ফিরে আসবে। লা নিনা চলার সময় সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমে আর এল নিনোর সময় তাপমাত্রা বাড়ে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাসের বিজ্ঞানীরা গত বছর বিশ্বে জলবায়ুর চরম পরিবর্তনের মূল্যায়ন করে বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এটি ইতিহাসে পঞ্চম-উষ্ণতম বছর বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এল নিনোর সময় বিষুবরেখা বরাবর পশ্চিমে প্রবাহিত বাতাসের গতি কমে যায় এবং উষ্ণ জল পূর্ব দিকে ধাবিত হয়, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে করে।
ইইউ-এর কোপার্নিকাস ক্লাইমেট ডিরেক্টর কার্লো বুওনটেম্পো বলেন, "সাধারণত বৈশ্বিক স্তরে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার সঙ্গে এল নিনোর সম্পর্ক রয়েছে। এটি ২০২৩ বা ২০২৪ সালে ঘটবে কিনা তা এখনও জানা যায়নি, তবে আমি মনে করি, এটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
জলবায়ু মডেলগুলো বোরিয়াল গ্রীষ্মের শেষের দিকে এল নিনো অবস্থা ফিরে আসার পূর্বাভাস দেয়। বছরের শেষের দিকে একটি শক্তিশালী এল নিনোর বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বুওনটেম্পো বলেছেন।
এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ বছর ছিল ২০১৬, যা একটি শক্তিশালী এল নিনোর সাথে মিলে যায়। যদিও জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনো ছাড়া বছরগুলোতেও চরম তাপমাত্রাকে উসকে দিয়েছে।
গত আট বছর পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম আটটি বছর ছিল- যা গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন দ্বারা চালিত দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়নের প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গ্রান্থাম ইনস্টিটিউটের সিনিয়র লেকচারার ফ্রেডেরিক অটো বলেছেন, এল নিনো দ্বারা প্রভাবিত তাপমাত্রা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোকে আরও খারাপ করতে পারে, যা দেশগুলো ইতিমধ্যেই অনুভব করছে- তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা এবং দাবানলের মাধ্যমে।
অটো বলেন, যদি এল নিনোর বিকাশ ঘটে, তাহলে ২০২৩ সাল ২০১৬ সালের চেয়েও বেশি গরম হওয়ার একটি ভাল সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিরল সূর্যগ্রহণ আজ
২০২২ সালের গ্রীষ্মকাল ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম। ওই বছর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের ফলে পাকিস্তানে বিপর্যয়কর বন্যা দেখা দেয় এবং ফেব্রুয়ারিতে অ্যান্টার্কটিক সমুদ্রের বরফের স্তর রেকর্ড পরিমাণে কমে যায়।
কোপার্নিকাস জানিয়েছে, গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা এখন প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় এক দশমিক দুই সেন্টিগ্রেড বেশি।
একাত্তর/এসজে
