এক দশকেরও বেশি সময় পর সিরিয়াকে পুনরায় আরব লীগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছেন লীগের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। রোববার সিরিয়ার পক্ষে ভোটও দিয়েছেন তারা।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, রোববার মিশরের রাজধানী কায়রোতে বৈঠকে বসেন লীগের ২২ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ১৯ মে সৌদি আরবে এ লীগের শীর্ষ সম্মেলনের আগেই সিরিয়ার বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নিলো দেশগুলো।
আরব লীগের মুখপাত্র গামাল রুশদি বলেছেন, মিশর ও সৌদি আরবের অনুরোধে এ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এখানে সিরিয়ার ব্যাপারে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
রুশদি আরও বলেন, সাধারণত আরব লীগ যেকোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে, কিন্তু একথাও মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি দেশেরই আপত্তি তোলার অধিকার রয়েছে।
যদিও কাতারসহ কিছু দেশ আরব লীগে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করে আসছিল।
এদিকে ভোটের আগে আরব লীগের একজন সিনিয়র কূটনীতিক মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, আজকের বৈঠকে সিরিয়াকে আরব লীগের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে আগামী ১৯ মে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠেয় আরব শীর্ষ সম্মেলনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, সেক্ষেত্রে খুব সম্ভবত প্রেসিডেন্ট আসাদ আরব শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

তবে পুতিন মিত্র আসাদের নেতৃত্বে সিরিয়ার সদস্যপদ ফিরে পাওয়াকে ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সরকার জানিয়েছে, সিরিয়া সরকারের প্রতি তার নীতি পরিবর্তন করবে না যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়াকে একটি "দুর্বৃত্ত" রাষ্ট্র বলে মনে করে বাইডেন প্রশাসন।
আরও পড়ুন: আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চীন-রাশিয়া-সৌদি-ইরান দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। যা মার্কিন সরকার ও ন্যাটোর জন্য মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, 'আরব লীগ' হলো আরব দেশসমূহের জোট। ১৯৪৫ সালের ২২ মার্চ এ লীগ গঠিত হয়। মিশরের রাজধানী কায়রোতে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। লীগের ২২ সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো- কুয়েত, লেবানন, ফিলিস্তিন, কাতার, জর্দান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, ওমান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরাক, আলজেরিয়া, মরোক্কো, সুদান, জিবুতি, মিশর, ইয়েমেন, মৌরিতানিয়া ও সোমালিয়া।
একাত্তর/আরবিএস
