এবছর আরব লীগের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সৌদি আরবে। সেই সম্মেলনে না বলেকয়েই হঠাৎ করে হাজির হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শুক্রবার এক টুইটবার্তায় জেলেনস্কি লেখেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আরব বিশ্বের সাথে ইউক্রেনের সম্পর্ক জোরদার করতে সৌদি আরবে আমার প্রথম সফর শুরু করছি’।
বার্তায় তিনি বলেন, ‘তিনি ক্রিমিয়া এবং অস্থায়ীভাবে দখলকৃত অঞ্চলে রাজনৈতিক বন্দী, ইউক্রেনের জনগণের প্রত্যাবর্তন, শান্তির ফর্মুলা এবং শক্তি সহযোগিতা’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
সৌদি আরব ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং আমরা আমাদের সহযোগিতাকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে যেতে প্রস্তুত’, জেলেনস্কি বলেন।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন।
তবে এখন পর্যন্ত তার সফরগুলো মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কট্টর মিত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। জি সেভেন বৈঠকে যোগ দিতে তিনি এই সপ্তাহান্তে জাপানে যাবেন।
তার সৌদি আরব সফর এই কৌশল থেকে সুস্পষ্ট বিচ্যুতি চিহ্নিত করে, কারণ ইউক্রেনকে সাধারণত রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের নিন্দাকারী দেশগুলোর সমর্থন জোগাড় করতে দেখা গেছে।
আরব রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের বিষয়ে অনেকাংশে নিরপেক্ষ থেকেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই মস্কোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
সৌদি আরব রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং দুই দেশ সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাসের মাধ্যমে তেল উৎপাদন কমাতে সহযোগিতা করেছে।
আরও পড়ুন: জি-৭ সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেল আরও আট দেশ
এমনকি, সৌদিরা গত বছর তাদের মধ্যস্থতায় বন্দি বিনিময় চুক্তির পর ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
দেশটি এই বছরের শুরুতে ইউক্রেনের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। রাশিয়াকে তার আগ্রাসন বন্ধ করতে ও ইউক্রেনের ভূখণ্ডকে নিজেদের সাথে সংযুক্ত করা থেকে বিরত থাকতে জাতিসংঘের প্রস্তাবের পক্ষে ভোটও দিয়েছে তারা।
একাত্তর/এসজে
