আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি বৃদ্ধি করে উত্তর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার গুজরাটের কচ্ছ উপকূলে সেটি আছড়ে পড়তে পারে।
বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবেলায় এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে জানান সরকারি কর্মকর্তারা।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ‘বিপর্যয়ে’র কারণে মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গুজরাটের সৌরাষ্ট্র এবং কুচে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওই এলাকায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাগর উত্তাল থেকে থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে। ইতিমধ্যে গুজরাটে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
১৫ জুন গুজরাটের উপকূলে আঘাত হানতে পারে ‘বিপর্যয়’। জখৌ বন্দরের ওপর দিয়ে এটি বয়ে যেতে পারে। তাই, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উপকূল এলাকায় সতর্কতা জারি করেছেন সরকার। গুজরাটের আমদাবাদ, ভাবনগর, রাজকোট, গান্ধীধামে খোলা হয়েছে একাধিক কন্ট্রোল রুম।
সোমবার থেকেই ফুঁসতে শুরু করেছে আরব সাগর। আরও উত্তাল হয়ে উঠে মঙ্গলবার। এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে গুজরাটসহ রাজস্থানেও। বৃষ্টির সঙ্গে চলছে ঝড়ো হাওয়া। ‘বিপর্যয়’ আসার আগেই ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে গুজরাটে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
১৬ জুন দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থানে প্রবেশ করতে পারে ‘বিপর্যয়’। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উত্তর-পশ্চিম রেল একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে। ‘বিপর্যয়ের’ প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবাতেও। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মুম্বাইতে জলোচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ঢেউয়ের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিলো।
এদিকে, দ্রুত দিক পাল্টানোয় ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ সরাসরি পাকিস্তানের করাচিতে আঘাত হানবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সিন্ধু প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ২২ মার্কিন সেনা আহত
পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, করাচি থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি। ১৫ জুন সিন্ধু প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় এটি আঘাত হানতে পারে। করাচিতে ১৪৪ ধারা জারি এবং বন্দর নগরীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের নিচু উপকূলীয় অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার লোককে সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে পাকিস্তান। সোমবার উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একাত্তর/এসি
