প্রকৃতি ধ্বংস না করেও যে একটি বড় নগর বা সভ্যতা গড়ে তোলা যায় তার জলজ্যান্ত উদাহরণ ইতালির ভেনিস। একটি শহরের ভেতর দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে যাচ্ছে দেড়শ’র বেশি খাল। সেই খাল কেউ দখল করে না, ময়লা আবর্জনা ফেলে না। বরং প্রকৃতির দেয়া খালগুলোকে ঘিরেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক সব স্থাপনা।
ভেনিসের গ্র্যান্ড ক্যানেল বা প্রধান খালের পাশের ভবনগুলো এমনভাবে তৈরি করা, যেখানে যেতে হবে নৌকায় করে। পুরো শহরজুড়ে ছোট-বড় এমন খাল ১৭৭টি। এসব খালের ওপর সেতু আছে ৪শ’ টি। এসব জায়গায় কেউ ভবন নির্মাণের কথা চিন্তাও করে না। খালের কোথাও আবর্জনা দূরের কথা একটি প্লাস্টিকের বোতলও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
প্রতি বছর ৩০ লাখেরও বেশি পর্যটক আসে এই শহরে। তাদের জন্য আছে আধুনিক সব ব্যবস্থাপনা। শহরটি তৈরি হয়েছে কাঁদা-মাটির ওপর। সেই মাটি শক্ত করা জন্য লাখ লাখ গাছের গুড়ি পাইল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই খাল ভরাট করা হয়নি। বরং কিছু খাল খনন করে প্রশস্ত করা হয়েছে।
ভেনিসের অধিবাসী থেকে শুরু করে পর্যটকরাও কেউ খালে কোন ময়লা ফেলে না। বরং কয়েকশ’ বছর ধরে সরকার ও নগরবাসী মিলে খালগুলো রক্ষা করে আসছে।
বিপরীতে বলা হয় ঢাকায় একসময় ৪৭টি খাল ছিলো। এর মধ্যে ২১টির কোন অস্তিত্ব এখন আর নেই। যেগুলো এখনও টিকে আছে সেগুলো খাল নয় নদর্মায় পরিণত হয়েছে। আর এভাবেই আমরা আমাদের শহরের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ধ্বংস করে প্রকৃতির নির্মম প্রতিশোধকেই বরণ করতে চলেছি।
মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত কলকাতা, অর্ধশতাব্দীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা