অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হাতে পাচ্ছে ইউক্রেন। এরইমধ্যে ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডস থেকে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচের স্থানান্তর শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে চলতি গ্রীষ্মেই ইউক্রেনের আকাশে উড়বে এফ-১৬।
বুধবার ন্যাটোর ৭৫তম শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। খবর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার।
ইউক্রেনের প্রতি ন্যাটো জোটের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত যে আমরা যখন কথা বলছি, তখন ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডস থেকে ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের স্থানান্তর চলছে।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যাতে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে নিজেকে যাতে রক্ষা করতে পারে সেজন্য যুদ্ধবিমানগুলো দেয়া হচ্ছে। চলতি গ্রীষ্মেই এগুলো ইউক্রেনের আকাশে উড়বে।
ব্লিংকেনের ঘোষণার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক এক্স পোস্টে বলেন, সমস্ত ইউক্রেনীয়দের লক্ষ্য অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডের কাছে কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, আমি বেলজিয়াম এবং নরওয়ের প্রতি তাদের এফ-১৬ জেট আমাদের দেয়ার প্রতিশ্রুতির জন্য কৃতজ্ঞ। এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে ইউক্রেনীয় জনগণ, শহর এবং সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সন্ত্রাস করার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকবে।
ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করতেও এফ-১৬ ব্যবহার করা হবে জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, আমি আশা করি সেনাদের নতুন করে যোগদানের ফলে আমাদের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে আমাদের দল ওয়াশিংটনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছে ইউক্রেন। এমনকি এই ফাইটার দেয়ার আগে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে ইউক্রেনীয় পাইলটদের। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বিভিন্ন ঘাঁটিতে চলছে প্রশিক্ষণ।
তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন শুরু থেকেই এ বিষয়ে ন্যাটোকে পরিষ্কার বার্ত দিয়ে আসছেন।
চলতি বছরে পুতিন এক বক্তব্যে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে এফ-১৬ ফাইটার জেট সরবরাহ করলেও এই বিমানটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না। তবে এই ফাইটার জেটগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং মস্কোকে তার সামরিক পরিকল্পনায় এটি বিবেচনায় রাখতে হবে।
পোল্যান্ড, বাল্টিক রাজ্য বা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ন্যাটোর কোনো দেশ রাশিয়া আক্রমণ করবে না এমন নিশ্চয়তা দিয়ে পুতিন সতর্ক করে বলেন, তবে পশ্চিমারা ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য যোদ্ধা সরবরাহ করলে সে বিমান অবশ্যই গুলি করে ধ্বংস করবে রুশ বাহিনী। এটা নাৎসি ইউক্রেন ও ন্যাটো হালকাভাবে নিলে ভুল করবে।
পুতিনের এমন হুঁশিয়ারির পর ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহ স্থগিত করেছিলো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড় দেখা দিতে পারে। তবে ইউক্রেন শেষ পর্যন্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হাতে পেলেও খুব একটা লাভ হবে না, কারণ এরইমধ্যে রাশিয়া তার যুদ্ধের ফসল ঘরে তুলেছে। ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল পাকাপাকিভাবে রাশিয়ার দখলে চলে গেছে। অন্যদিকে এফ-১৬ ঠেকাতে রাশিয়া আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহর শক্তি নিয়ে আতঙ্কে ইসরাইল!
গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব নিয়েও সংশয়!
ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ দুই অবস্থানে হামলা চালালো ইরাকি যোদ্ধারা