হামাসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি কে হবেন এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার অবর্তমানে হামাসের হাল ধরবেন কে? ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জন্মলগ্ন থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া স্বাধীনতাকামী এই গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বিশিষ্ট নেতাই বা কারা?
গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি তাদের নিজেদের সম্পর্কে খুব কম তথ্যেই সামনে আনেন, অন্যদের অনেকেই আবার ইসরাইলের হত্যা প্রচেষ্টা এড়াতে তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন।
হামাসের এমনই একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা খালেদ মেশাল। যাকে এই মুহূর্তে ইসমাইল হানিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। হামাসের কয়েকটি সূত্র থেকেও এমন তথ্য জানানো হয়েছে ।

খালেদ মেশাল ১৯৯৭ সালের দিকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেনে ইসরাইলের হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরে। ইসরাইলের চররা সে সময় জর্ডানের রাজধানী আম্মনে মেশালের কার্যালয়ের বাইরে রাস্তায় তাকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করতে চেয়েছিল।
মেশাল হামাস আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য।১৯৯৬ এবং ২০১৭ সালের মধ্যে তিনি রাজনৈতিক ব্যুরোর সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৪ সালে শেখ আহমেদ ইয়াসিনের মৃত্যুর পর এর নেতা নিযুক্ত হন।

এরপরই আছেন গাজা উপত্যকায় হামাস আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার। তিনি মাজদ নামে পরিচিত হামাসের নিরাপত্তা পরিষেবার প্রতিষ্ঠাতা।
এখন পর্যন্ত তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছেন সিনওয়ার। ১৯৮৮ সালে তৃতীয়বার গ্রেপ্তারের পর হামাসের এই নেতাকে চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে হামাস-ইসরাইল বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান এবং গাজায় ফিরে আসেন। ইসমাইল হানিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সিনওয়ার গাজা উপত্যকার রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচিত হন।

এছাড়া হমাস আন্দোলনের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের নেতৃত্ব থাকা মোহাম্মদ দেইফের নামও উঠে এসেছে হানিয়ার উত্তরসূরির তালিকায়। দেইফ ফিলিস্তিনিদের কাছে ‘দ্য মাস্টারমাইন্ড’ এবং ইসরাইলিদের কাছে ‘দ্য ক্যাট উইথ নাইন লাইভস’ নামে পরিচিত। মূলত মোহাম্মদ দেইফ হচ্ছেন হামাসের সামরিক শাখার কমান্ডার।
