যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ে গেছে হাজারো বাড়িঘর। যেসব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেসব এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। তবে পুরো শহরই এখন ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে, ফলে ফেরার কোনো জায়গা নেই অনেকেরই।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের দাবানলের আগের আর পরের চিত্র দেখে মনে হয় এ যেন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র। যেন পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ হয়েছে এ শহরে। ভয়াবহ আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে সব অবকাঠামো। স্থানীয়রা বলছেন, এ দৃশ্য তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। খবরে দেখলাম আগুন নিভে যাওয়ার পর নিজেদের শহরের অবস্থা। আর থাকতে পারলাম না ফিরে না এসে।
তিনি আরও বলেন, সে সময় পালিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানে কাজ হয়েছে। কিন্তু এখন আফসোস হচ্ছে। কেন নিজেদের বাড়িটি বাঁচানোর চেষ্টা করলাম না। এখন মনে হচ্ছে সবাই মিলে চেষ্টা করলে হয়তো শহরের কিছুটা অংশ অন্তত বাঁচাতে পারতাম। যদিও সেটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতো।

নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির জায়গায় এক তোড়া গোলাপ রেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডেমিনা ও লিচটেনবার্গ দম্পতি।
তারা বলেন, আগুনে আমাদের রেফ্রিজারেটর গলে একটা ছোট বস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিজেদের পুড়ে যাওয়া বাড়িটিকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি এখানে। বাড়িটি আমাদের এবং আমরা বাড়িটি আগলে রাখার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। এখান থেকে আমাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

এদিকে, দাবানলে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন আলটাডেনার ৬৯ বছর বয়সী বাসিন্দা মাকাস ডাসিগেনিস। আগুন তাদের বাড়ির খুব কাছেই চলে এসেছিলো। কিন্তু তিনি পালিয়ে না গিয়ে নিজের এবং দুই প্রতিবেশীরও ঘর বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি জানতাম এটা সম্ভব। প্রতিবেশীদের সুইমিং পুল থেকে পাইপে করে পানি নিয়ে সারারাত ছিটিয়েছি। দুইদিন নির্ঘুম থেকেছি। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সাহায্য করেছেন। যদিও একা কাজটা করতে ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেমে যাইনি। চেষ্টা না করলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না আমি।

লস অ্যাঞ্জেলেসের পাঁচটি কাউন্টিতে এখনও দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হারিকেন তীব্রতার বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং পানির চাপ কম থাকায় আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছে দমকল কর্মীরা।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগুনের তীব্রতা দেখে তা নিয়ন্ত্রণ করার বদলে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার কাজ করছেন মার্কিন ফায়ার ফাইটাররা। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেশ কম হয়েছে।
দাবানলে এ পর্যন্ত ৫০ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দাবানল নিয়ে চটেছেন ট্রাম্প, দুষলেন বাইডেনকে