তাইওয়ানে সুপার টাইফুন রাগাসার প্রভাবে একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এরপরই বুধবার সকালে রাগাসা আঘাত হানে হংকংয়ে। শক্তিশালী ঝড়ের কারণে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৬২ জন। দেশটিতে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদিকে, আগাম সতর্কতা হিসেবে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশ থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বছরের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সুপার টাইফুন রাগাসার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে তাইওয়ানের একটি উপকূলীয় অঞ্চল। মঙ্গলবার পাঁচ মাত্রার হারিকেনটি আঘাত হানে দেশটিতে।

তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা হুয়ালিয়েনের উপকূলেই আছড়ে পড়েছে রাগাসা। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে এ জেলাতেই বেশি। প্রবল বর্ষণের জেরে হুলিয়েনের একটি হ্রদের সীমানা ভেঙে পুরো শহর পানিতে ভেসে গেছে। এতে বহু মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক মানুষ। তাদের উদ্ধারের মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী।
তাইওয়ানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পর বুধবার সুপার টাইফুন রাগাসা হারিকেনের শক্তি নিয়ে ও প্রবল বৃষ্টিসহ হংকংয়ে আঘাত হানে। হংকং কর্তৃপক্ষ এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কারণে সোমবার থেকেই হংকংয়ে ১০ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং শহরের স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাগাসার কারণে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশ থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাগাসার প্রভাবে এ প্রদেশে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
এর আগে সোমবার ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কাগায়ানের বাতানিজ দ্বীপের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল রাগাসা। সেখানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাগাসার আঘাতে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। সুপার টাইফুন রাগাসাকে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনের সঙ্গে তুলনা করেছেন ফিলিপাইন ও চীনের আবহাওয়াবিদরা।
পূজার আগে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট নিহত ১২