ফিলিপাইনে তীব্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় আঘাত হানার পর থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কমপক্ষে তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ লুজনের বিকোল অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তীব্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় বুয়ালোইয়ের আঘাতে দেয়াল ধসে এবং গাছপালা উপড়ে পড়ায় তিন জন নিহত হয়েছেন। ঝড়টি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে বয়ে যাচ্ছে।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ঝড়ের তাণ্ডবে একটি গির্জার ছাদ ভেঙে পড়ায় একটি প্রদেশের উদ্বাস্তুরা পিউ-এর নিচে আশ্রয় নিয়েছিলো।
দক্ষিণ লুজন দ্বীপের মাসবাতে প্রদেশের পৌর প্রকৌশলী জেরোম মার্টিনেজ এএফপিকে বলেছেন, ভোর ৪টার দিকে বাতাস গির্জার দরজা, জানালা এবং ছাদ ধ্বংস করে দেয়।
তিনি বলেন, এটি আমার অভিজ্ঞতার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। বাতাসে কিছু শিশু সামান্য আঘাত পেয়েছে যার জন্য সেলাই করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় আরো বেশি লোককে সরিয়ে নিতে হবে কারণ, অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অনেক ছাদ উড়ে গেছে। তারা এখন রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বার্নার্ডো আলেজান্দ্রো বলেছেন, প্রায় চার লাখ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিকলের মাসবেট সিটির এক উদ্ধারকারী ফ্র্যান্ডেল অ্যান্থনি অ্যাবেলেরা ফোনে বলেছেন, আমরা অনেক বড় গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ফেলছি কারণ অনেক রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। বৃষ্টি জোরে ছিলো, কিন্তু বাতাস আরো জোরে ছিলো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এবং এএফপি দ্বারা যাচাই করা ভিডিওগুলিতে দেখা গেছে লোকেরা মধ্য ফিলিপাইনের ভিসায়াস দ্বীপপুঞ্জের আরো দক্ষিণে বন্যা কবলিত রাস্তায় চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করছে বা কোমর-গভীর পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
ফিলিপাইনে প্রতি বছর গড়ে ২০টি ঝড় এবং টাইফুন আঘাত হানে, যা দুর্যোগপ্রবণ এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে ক্রমাগত দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দেয়।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সাথে সাথে ঝড়গুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
এখনই রাশিয়াকে থামান, জাতিসংঘের ভাষণে জেলেনস্কি