যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। ক্যারিবীয় সাগরে বেশ কিছু নৌকায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ওই সব নৌকায় ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পাচার করা হচ্ছে। আর এই অভিযোগেই ভিত্তিতেই দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার জন্য পাঁচ কোটি ডলারের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই ঘোষণায় কি আসলেই মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র?
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো টেলিফোনে কথা বলেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য এক বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, এই ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কিছু জানায়নি।
ট্রাম্প প্রথমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলায় শাসনব্যবস্থা বদলের কথা বলছিলেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের অভিযোগ, মাদুরো ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করছেন। এরপর ২০১৯ সালে মাদুরোর পরিবর্তে দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদের শেষ বছরে ট্রাম্প আরও চাপ বৃদ্ধি করেন। তিনি মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির তথ্য চেয়েও বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ডেমোক্রেটিক দলের নেতা জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হন। বাইডেনের প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প ঘোষিত পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করেন। ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই পুরস্কারের অঙ্ক আরও বাড়িয়ে পাঁচ কোটি দেন। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন গত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে।
ভেনেজুয়েলা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দমন–পীড়নের মুখোমুখি হয়েছে। ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ও চরম দারিদ্র্যের মতো অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে তারা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য মৌলিক সামগ্রীর ঘাটতিতে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন করেন, ভেনেজুয়েলায় নতুন সরকার আসতে পারে ঠিকই, তবে তারা দেশের সব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হবে। তারা বলছেন, মাদুরোকে গ্রেপ্তার করলে এ দুটি সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
যদি কোনো সরকারকে অস্থিতিশীল করা হয়, তখন সেখানকার মানুষ দেশের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে পালানোর চেষ্টা করবে। এতে শরণার্থী বা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। এতে পাশের দেশগুলোতেও অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। এতে আরও বেশি অভিবাসী সমস্যা তৈরি হবে এবং মাদক চোরাকারবারি, সন্ত্রাসী বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্য সুযোগ তৈরি হবে।
বৃষ্টি-বন্যা আর ভূমিধসে বিপর্যস্ত এশিয়ার কয়েকটি দেশ