গাজা উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত শান্তি পরিষদে অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর, মানবিক সহায়তার পরিধি বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে ইসলামাবাদ আশাবাদী।
রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘোষণার ঠিক আগেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে রওনা হয়েছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে সেনাপ্রধানেরও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই গাজা ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং ট্রাম্পের ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছরের শেষের দিকে গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো, যা গাজায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন তদারকি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।
এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি দেশ এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্প নিজে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জ্যারেড কুশনার এবং টনি ব্লেয়ারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা এই উদ্যোগের সাথে জড়িত রয়েছেন।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিন সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়। বিশেষ করে গাজায় শান্তি রক্ষা এবং মানবিক সংকট নিরসনে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তি হিসেবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণ দেশটির জন্য একদিকে যেমন কূটনৈতিক বড় সুযোগ, অন্যদিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গাজায় শান্তি রক্ষায় সেনা পাঠানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে নিতে হতে পারে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
