পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভয়াবহ ও সমন্বিত হামলায় কমপক্ষে আট পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোরে কোয়েটাসহ প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরে একযোগে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয় বেলুচিস্তানে।
প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ পাসনি, মাসতুং, নুশকি এবং গোয়াদর জেলায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা এবং বন্দুক হামলা চালায়।
বেলুচিস্তানের সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা সামরিক স্থাপনা, পুলিশ এবং সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর একদিন আগেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী বেলুচিস্তানে পৃথক অভিযানে ৪১ জন সশস্ত্র বিদ্রোহীকে হত্যার দাবি করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এই ভয়াবহ হামলা।
নিরাপত্তা বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধে বিদ্রোহীদের অনেক হামলা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে, অন্তত আট পুলিশ সদস্যের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলুচিস্তানের বেশ কিছু এলাকায় ইন্টারনেট এবং ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্রোহীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে এবং বড় কোনো নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ পুরো এলাকা জুড়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র প্রদেশ। কয়েক দশক ধরে সেখানকার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করে আসছে, রাষ্ট্র এবং বিদেশি সংস্থাগুলো তাদের খনিজ সম্পদ শোষণ করছে কিন্তু স্থানীয়দের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এই ক্ষোভ থেকেই তারা প্রায়ই সরকারি বাহিনী, অ-স্থানীয় শ্রমিক এবং বিদেশি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।
গত বছরও এই গোষ্ঠীটি ৪৫০ জন যাত্রীসহ একটি ট্রেনে হামলা চালিয়েছিল, যা দুদিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল এবং বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন। রোববারের এই হামলা প্রমাণ করে, দীর্ঘদিনের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে পাকিস্তান সরকার এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। সূত্র: আল জাজিরা
ইরান সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত: আইআরজিসি