মধ্যপ্রাচ্যের ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত এসব হামলা চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।
রোববার (১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ চালিয়েছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে এই পাল্টা আঘাত।

সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশে সামরিক ঘাঁটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরাইলের তেল নোফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়ায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কমান্ড হেডকোয়ার্টার এবং তেল আবিবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বড় শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরান আগামীতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলছে, ইরানি বাহিনী ‘ভিন্ন ও আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ নেবে।
এদিকে আজও দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, দুবাইয়ে কয়েকটি ‘জোরালো’ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এসব শব্দের উৎস বা কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজাধানী মাস্কাটে সংলাপ শুরু হয় তেহরান ও ওয়াশিংটনে প্রতিনিধিদের মধ্যে। ৫ দফা আলোচনা চলার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় শেষ হয় সংলাপ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংলাপ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না।
সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দুই শতাধিক মানুষ নিহত হন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত
বিমান হামলায় ইরানের ৪০ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত, মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি