সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় বাণী ও উপদেশ দিয়ে লাখ লাখ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ধর্মের মুখোশের আড়ালে যে লুকিয়ে ছিল এক চরম বিকৃত মানসিকতা, তা এবার প্রকাশ্য এলো। বন্ধুত্ব করতে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার মায়ের ছবি ‘এআই’ প্রযুক্তির সাহায্যে নগ্ন ও বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দিল্লির এক তথাকথিত পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার আহমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম শাখা দিল্লি থেকে সুমিত নেমচাঁদ শর্মা নামের ২৭ বছর বয়সী ওই ভণ্ড ধর্ম প্রচারককে হাতকড়া পরায়। নারীদের অনলাইন হেনস্থা থেকে রক্ষা করতে পুলিশের নতুন উদ্যোগ ‘মিশন সাইবাররক্ষক’ প্রকল্পের অধীনে এই প্রথম কোনো বড়সড় অপরাধীকে জালে তোলা হলো।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এক গা শিউরে ওঠা ডিজিটাল দুঃস্বপ্নের গল্প। গুজরাটের বাসিন্দা ওই ভুক্তভোগী তরুণী প্রথম ইন্টারনেটে সুমিতের ধর্মীয় ভিডিও দেখে তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর সুমিত ইনস্টাগ্রামে তরুণীকে মেসেজ পাঠিয়ে প্রথমে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সুমিতের আসল রূপ বেরিয়ে আসে; তিনি তরুণীর সাথে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা করেন। তরুণী সরাসরি সুমিতের এই কুপ্রস্তাব ও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট প্রত্যাখ্যান করে দেন। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে না পেরে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সুমিত ওই তরুণীকে ইন্টারনেটে অনবরত নজরদারি করতে শুরু করেন।
প্রতিশোধের নেশায় অন্ধ হয়ে সুমিত ওই তরুণী এবং তাঁর মায়ের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে সাধারণ কিছু পারিবারিক ছবি ডাউনলোড করেন। এরপর গুগলে গিয়ে ছবি থেকে ‘কাপড় খোলার এআই টুল’ অনুসন্ধান করে বেশ কিছু সহজে ব্যবহারযোগ্য এআই ওয়েবসাইটের সন্ধান পান তিনি। সেই বিকৃত এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তরুণী ও তাঁর মায়ের ছবি মফিং করে শতাধিক চরম আপত্তিকর নগ্ন ছবি এবং ভিডিও তৈরি করেন এই ভণ্ড পুরোহিত।
তরুণী ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সুমিত ওই তরুণীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে এক্স, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে প্রায় আট থেকে দশটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেখানে তিনি ওই এআই-নির্মিত নগ্ন ছবি ও ভিডিওগুলো আপলোড করার পাশাপাশি অত্যন্ত নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকেন, যাতে সমাজ ও আত্মীয়স্বজনদের চোখে পরিবারটি চিরতরে ছোট হয়ে যায়।
লজ্জা আর অপমানে দিশেহারা হয়ে অবশেষে আহমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম টিমের দ্বারস্থ হন ওই ভুক্তভোগী নারী। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলা দায়েরের পর পুলিশ পরিদর্শক এম এইচ ভেতারিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে।
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সুমিতের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করে উত্তর-পূর্ব দিল্লির উসমানপুর এলাকায় তাঁর লুকিয়ে থাকার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। সেখানে আচমকা অভিযান চালিয়ে সুমিতকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। ধর্মের নামে ইন্টারনেটে থাকা এমন ‘ডিজিটাল নেকড়ে’দের থেকে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সাইবার পুলিশ।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
যুদ্ধবিরতির মাঝেই হরমুজে মার্কিন-ইরান সরাসরি সংঘাত
ইরানের সঙ্গে ভেনিজুয়েলাকে গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প!