ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে চলমান অভিযানে বড় সাফল্যের কথা জানিয়েছে। অঞ্চলটির সুধজা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে যে শহর ও গ্রামগুলো দখল করেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় শহর সুধজা। যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস ছিলো। পশ্চিম সাইবেরিয়ার গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন সুধজা শহরের মধ্য দিয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সুধজা শহরে ইউক্রেনীয় সামরিক কমান্ডারের অফিস স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এর কার্যক্রম বা বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি। এপির পক্ষ থেকে জেলেনস্কির এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, রুশ কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে বড় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। হামলায় একটি রুশ বিমানঘাঁটির অন্তত দুইটি হ্যাঙ্গার এবং অন্যান্য এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার উপগ্রহের তোলা ছবি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, বোরিসোগলেবস্ক বিমানঘাঁটির দুই হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। তবে, সেখানে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবারও কুরস্কের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেক্সেই স্মিরনভ গ্লুশকোভো অঞ্চল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। অঞ্চলটি সুধজা শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানেও রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী কুরস্ক অঞ্চলে তাদের দ্বিতীয় সপ্তাহের অভিযানে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।
কুরস্ক অঞ্চলের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার আরেক সীমান্তবর্তী অঞ্চল বেলগোরোদেও ফেডারেল পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
গত সপ্তাহে আচমকা সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে কুরস্ক অঞ্চলে প্রবেশ করে ইউক্রেনের সেনারা। ইউক্রেনীয় বাহিনী কুরস্ক অঞ্চলের প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল অঞ্চল দখল করেছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দার সিরস্কি। রুশ সেনা মোতায়েনের পর ওই অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়েছে এবং দুই বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে বলে রুশ সামরিক ব্লগাররা জানিয়েছেন।
সীমান্ত থেকে আরও বাসিন্দা সরালো রাশিয়া