ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন কার্যত অচল। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যে দেখা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী জাহাজ ও জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে আছে। শনিবার মার্কিন-ইসরাইল হামলার পরপরই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান।
শিপ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম- মেরিন ট্রাফিকের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তত ১৫০টি বিশালাকার ট্যাঙ্কার (অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বাহী) হরমুজ প্রণালীর বাইরে পারস্য উপসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে ইরাক, সৌদি আরব এবং কাতার থেকে আসা তেলের জাহাজও রয়েছে। প্রণালীর অন্য প্রান্তেও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে। সংঘাতের ফলে উদ্ভূত চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণেই জাহাজগুলো এগোতে সাহস পাচ্ছে না।
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আরব সাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী এলাকায় বর্তমানে ব্যাপক ‘সামরিক তৎপরতা’ চলছে। এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অস্থিতিশীল’ উল্লেখ করে তারা বলছে, ভুল হিসাব-নিকাশ বা ভুল পরিচয়ের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হামলার শিকার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
যদিও হরমুজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি, তবে রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে যাতায়াতে নানা বিধিনিষেধের কথা প্রচার করা হচ্ছে। ইউকে মেরিটাইম, সতর্ক করে বলেছে, এই উত্তেজনা এখন কেবল হরমুজ প্রণালীতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং লোহিত সাগরের ‘বাব আল-মানদাব’ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
এই সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক প্লাস’ রোববার এক জরুরি বৈঠকে বসছে। সূত্রমতে, বিশ্ব বাজারে তেলের জোগান ঠিক রাখতে তারা উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া অন্যান্য দেশগুলোর অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের সক্ষমতা এখন খুবই সীমিত।
রোববার গ্রিনিচ মান সময় ১১টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মাত্র আটটি প্রভাবশালী দেশ অংশ নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হয়, তবে কেবল জ্বালানি তেল নয়, বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
শোকে স্তব্ধ তেহরান, রাজপথে কান্নার রোল