ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে মার্কিন ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ: লারিজানি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেছেন, ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা বা খণ্ড-বিখণ্ড করার যে নীল নকশা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এঁকেছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

শনিবার এক সাক্ষাৎকারে লারিানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের মূল লক্ষ্যই ছিল ইরানকে ভেঙে ফেলা। কিন্তু ইরানি জাতির সংহতি এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের বলিষ্ঠ ব্যবস্থাপনা তাদের সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, সেই সঙ্গে জায়নবাদী (ইসরাইল) এবং অঞ্চলের কিছু ক্রীড়নক তাদের বক্তৃতায় আসল উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করা।

লারিজানি আরও যোগ করেন, তাদের লক্ষ্য শুধু ইরানে সামান্য কোনো পরিবর্তন আনা ছিল না। ইসরাইলের দৃষ্টিতে ইরানের মতো একটি বিশাল দেশের ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তনের কোনো অর্থ নেই। তাই তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের বিভাজন। তাদের মূল মাথা ব্যথার কারণ স্বয়ং ইরান রাষ্ট্রটিই।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া একটি পোস্টের সূত্র ধরে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল ইরান ভেঙে পড়ছে, লারিজানি মন্তব্য করেন, এটি প্রমাণ করে যে যুদ্ধের শুরু থেকেই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট করার পরিবেশ তৈরি করা।

আমেরিকানদের ভুল হিসাব-নিকাশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার মতে, আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা বর্তমান পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল, বিশেষ করে ইরানকে বুঝতে পারছে না। তারা মনে করছে ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলোতে তারা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, ইরানেও তার পুনরাবৃত্তি সম্ভব। অথচ এখানকার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।


সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আরও বলেন, তারা একটি বিশাল ধাক্কা দিয়ে ইরানি জাতির মনোবল ভেঙে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি, কারণ ইরানি জাতির গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দিনশেষে ইরানিরা ইরানিই। ইরানের বিভক্তির মতো কোনো বিষয়ে তারা কখনোই বিদেশি শক্তির সাথে হাত মেলাবে না। লারিজানি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ ইরাক ও আফগানিস্তানে আমেরিকার হস্তক্ষেপের পরিণতি নিজের চোখে দেখেছে। সবাই জানে এই পদক্ষেপগুলো জনগণের প্রতি দয়া থেকে নয়, বরং তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিভাজন তৈরি’র কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকানরা ইরানের ভেতরে বিভেদ তৈরির পেছনে প্রচুর বিনিয়োগ করেছিল। তারা ভেবেছিল সমাজের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যকে তারা রাজনৈতিক ও সামাজিক কোন্দলে রূপ দিতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইরানের মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে পারে, তবে দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে তারা সবাই এক।


এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্বের ওপর জোর দিলেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি এই যুদ্ধে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয় এবং সেই ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে ইসলামিক রিপাবলিকের পাল্টা জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এটি একটি আইনগত ও অনালোচনযোগ্য অধিকার।

 
তিনি আরও বলেন, অঞ্চলের দেশগুলোকে জানতে হবে যে, তারা একই সাথে ইরানের সাথে বন্ধুত্বের ঘোষণা দেবে এবং আবার ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নিজেদের ঘাঁটি ছেড়ে দেবে, এ দুটি একসাথে চলতে পারে না। ইরান পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছে যে, যদি কোনো আঞ্চলিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে তার প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে এবং এই নীতি সবসময় বজায় থাকবে।

এআরএস
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী।  সেই সঙ্গে ওই জলসীমায় শুক্রবার থেকে এ...
ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন...
ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ যখন এক চরম অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিস্ফোরক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। পারমাণিক বোমার বাইরে দেশটির হাতে...
বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও স্পর্শকাতর জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চরম ও বেপরোয়া লড়াই শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের অনমনীয় অর্থনৈতিক অবরোধ এবং...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে...
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দারুণ এক ঝড় দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় এসে থামলো এক অচেনা ও করুণ ধ্বংসস্তূপে! ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে...
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদদলনে ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত...
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংঘটিত ভয়াবহ আগুনে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে।...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর