মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যখন তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে, তখন ইরানের প্রতি কঠোরতম বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত আর বেঁচে নেই। ট্রাম্প বলেন, আমি শুনেছি তিনি বেঁচে নেই।
শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি শুনছি তিনি (মোজতবা খামেনি) আর জীবিত নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের জন্য তাঁর উচিত হবে খুব বুদ্ধিমানের মতো একটি কাজ করা, আর তা হলো আত্মসমর্পণ।

ইরানের নতুন এই নেতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। এখন পর্যন্ত কেউ তাঁকে প্রকাশ্যে দেখাতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসাই এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ইরান আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তেহরান চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে তিনি এখনই সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত নন। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি তা করতে চাই না। কারণ চুক্তির শর্তগুলো এখনো আমাদের জন্য যথেষ্ট ভালো বা অনুকূল নয়।
ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং প্রধান তেল রপ্তানি হাব খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার হামলায় দ্বীপটির সিংহভাগ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তাঁর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্যটি ছিল হামলার ধারাবাহিকতা নিয়ে। ট্রাম্প বলেন, শুধু মজা করার জন্য আমরা সেখানে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারি।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প মার্কিন মিত্রদের প্রতি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক শক্তির সম্মিলিত উপস্থিতি প্রয়োজন।
খারাগ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে ‘মজা করার জন্য’ হামলার কথা বলায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে এখনই কোনো চুক্তি নয়: ট্রাম্প