ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ইরান এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরাইলি ভূখণ্ডে তাদের দ্বিতীয় দফার বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ওপর চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি গণমাধ্যম প্রেস টিভি এসব তথ্য দিয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি বাহিনী জানায়, তারা অধিকৃত ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইসরাইলি শত্রুপক্ষের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। বাহিনীর সদস্যদের মতে, এই অভিযান সফলভাবে তার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে তারা একই অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আরও একটি হামলা চালিয়েছিল।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘হলি জিহাদ ব্যাটল’ বা পবিত্র জিহাদ যুদ্ধ। বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গর্ব, সম্মান এবং প্রতিরোধের দেশ ইরানের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত মাসের শেষ দিক থেকে ইরান ও এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে বেআইনি ও উস্কানিমূলক হামলা শুরু করেছে, ইয়েমেনের এই পদক্ষেপ তারই মোক্ষম জবাব। তারা ইসরাইলি ‘জায়নবাদী নীল নকশা’ রুখে দেয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছে, যার মাধ্যমে ইসরাইল এই অঞ্চলে নিজের দখলদারিত্ব সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী তাদের বক্তব্য শেষে হুশিয়ারী দিয়ে বলেছে, ধর্মীয়, নৈতিক এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। যতক্ষণ না ‘সন্ত্রাসী শত্রু পক্ষ’ তাদের বর্বর হামলা ও আগ্রাসন বন্ধ করে আত্মসমর্পণ করছে, ততক্ষণ ইয়েমেনের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থামবে না। মূলত ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির পাল্টা আক্রমণের সাথে সমন্বয় করেই ইয়েমেন এই জোরালো আঘাত হেনেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা নিহত
ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন