যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার ওপর এর প্রভাব নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্বেগের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।
সোমবার পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুই নেতা টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এমন এক সময়ে এই আলোচনা হলো যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির বারবার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আর কোনো আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তাদের নেই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ আরোপ এবং ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনাগুলো যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি ইতিমধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানকেও জানানো হয়েছে।
মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা অব্যাহত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল যদি নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
ইরান আরও উল্লেখ করেছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা চলার সময় একটি ১০-দফা প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছিল এবং তা নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে সেই অগ্রগতির সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
মুখপাত্রের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি পদক্ষেপের আগে হরমুজ প্রণালী স্থিতিশীল ছিল; কিন্তু ইরানি জাহাজ ও অবকাঠামোতে বারবার হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। লেবাননের যুদ্ধবিরতিসহ বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভুল তথ্য দিচ্ছে বলেও সমালোচনা করে ইরান। একই সাথে তেহরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইরানি নাগরিক ও সম্পদের ওপর অতীতের হামলাগুলো তারা ভুলে যায়নি।
সূত্র: পাকিস্তান অবজারভার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কড়াকড়িতে জাহাজশূন্য হরমুজ প্রণালী
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিল ইরান