মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসে ‘ঘাতক ডলফিন’ নামাচ্ছে ইরান!

আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনা এখন এক অদ্ভুত ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ মোড় নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন নৌ-অবরোধে পিষ্ট ইরান এখন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোকাবিলায় ‘মাইনবাহী ডলফিন’ ব্যবহারের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

স্নায়ুযুদ্ধ আমলের এই বিচিত্র সামরিক কৌশলটি তেহরানের হার্ডলাইনার বা কট্টরপন্থীদের আলোচনায় উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলেছে।


ইরানের এই ডলফিন ব্যবহারের পরিকল্পনাটি মূলত ২০০০ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে কেনা একটি সোভিয়েত সামরিক কর্মসূচির অংশ। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তাদের সামরিক ডলফিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ইউক্রেনের হস্তগত হয়, যা পরবর্তীতে সরঞ্জামসহ ইরানের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল।

এই ডলফিনগুলোকে শত্রুপক্ষের ডুবুরিদের হার্পুন দিয়ে আক্রমণ করা, পিঠে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ইনজেকশন বহন করা এবং জাহাজের গায়ে ধাক্কা খেয়ে বিস্ফোরিত হওয়ার মতো মারাত্মক সব কাজে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রাণীগুলো কী অবস্থায় আছে তা জানা না গেলেও, ইরানের বর্তমান সংকটে এগুলোকে ‘অপ্রচলিত অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।


অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে চরম ধস নেমেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভেতর দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী অংশটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি অনুকূল চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, সাইদ জলিলির নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী গোষ্ঠী মনে করে, এই অবরোধ আসলে যুদ্ধেরই একটি ভিন্ন রূপ। তাদের দাবি, নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থেকে ধ্বংস হওয়ার চেয়ে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে জাহাজ চলাচল তলানিতে ঠেকেছে। ইরান শুধু ডলফিন বা সাবমেরিন ব্যবহারের হুমকিই দেয়নি, বরং লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ও টেলিফোন ক্যাবল কেটে দেয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

ওয়াশিংটন ইরানের এই খনি স্থাপনের হুমকিকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব প্রশিক্ষিত ডলফিন, সমুদ্রতলে নজরদারি করা ড্রোন এবং আধুনিক মাইন-সুইপিং হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন, মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা যে কোনো ইরানি নৌযান যেন সরাসরি ধ্বংস করে দেয়া হয়।

যদিও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাইন সরানেোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে, তবুও যুদ্ধের ময়দানে এই ধরণের ‘অপ্রচলিত’ আক্রমণের মোকাবিলা করা কতটা কঠিন হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মনে সংশয় রয়েছে।


অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালীর এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু তেল নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। বর্তমানে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত ইরান যদি এই ‘কামিকাজে’ ডলফিন বা সাবমেরিন হামলা চালায়, তবে তা একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের সূচনা করবে। বর্তমানে তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যদি যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয় এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া হয়, তবেই তারা হামলা বন্ধ করবে। তবে, পরমাণু আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের অনমনীয় অবস্থান এই অচলাবস্থা ভাঙার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে এখন কেবল যুদ্ধের দামামাই নয়, বরং এক অজানা ও অদ্ভুত রণকৌশলের ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে।

 

আরবিএস
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত রবিবার তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে...
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নামকে অমর করে রাখার জন্য কিলিয়ান এমবাপে এমন এক মঞ্চ বেছে নিলেন, যা তাঁর মহিমার সাথে কিছুটা বেমানানই বটে! রোববারের মেগা ফাইনালের আগে মিয়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফ্রান্স ও...
সিলেট বিভাগে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না হামের প্রাদুর্ভাব। গত চার মাসে বিভাগে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই শিশু। যতো সময় যাচ্ছে, মৃত্যুর মিছিল ততোই...
নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রাত ১টায় বিশ্বকাপ ফাইনালের মেগা মহারণে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, যেখানে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে নামবেন লিওনেল মেসি। আর এই...
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বড়ো ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন। জনপ্রিয় এই মাধ্যম দুটিতে কম্পিউটার বা ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে লগইন বা প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এর...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর