টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর শপথের জন্য শনিবার তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা পিছিয়ে যেতে পারে। তার শপথ হতে পারে রোববার অর্থাৎ ৯ জুন।
দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ নেতাদের দফায় দফায় বৈঠকের মধ্যে শপথ গ্রহণের নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
সূত্রের খবর দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী শপথ নেবেন রোববার। আগে শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছিল।
ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও জোটসঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠনের মতো আসন পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু জোটে থাকা নানাজনের নানা দাবি মেনে এবার সরকার গঠন করতে হবে গত দুইবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিজেপিকে।
নরেন্দ্র মোদী বুধবার পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চিঠি দেন। রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত তাকেই প্রধানমন্ত্রী থাকতে বলেন।
বুধবার এনডিএ জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজনাথ সিংসহ বিজেপির বলিষ্ঠ নেতারা নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। শরিক দলগুলিকে বসানো ও বোঝানোর চেষ্টা চলছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আবার বৈঠক করবেন এনডিএ নেতারা এবং নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন। এরপরই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের রূপরেখা জানানো হবে।
৪০০ আসন পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবার ভোটের নামে মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ। কিন্তু গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে বিজেপি এবার সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে। ৫৪৩ আসনের মধ্যে এনডিএ পেয়েছে ২৯২ আসন, আর বিজেপি একা পেয়েছে ২৪০ আসন।
কিন্তু ১০ বছর আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৭২ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩০৩ আসন পায় বিজেপি একাই। ভারতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন।
গত দুইবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠন করায় যে দাপট দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, এবার আর তা হচ্ছে না। মোদী হয়ে পড়েছেন নির্ভরশীল। উত্তরপ্রদেশসহ বিজেপির বিভিন্ন ঘাটি হারিয়ে যাওয়ায় শরিকরা কতদিন পাশে থাকবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এনডিএ শিবিরে উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কার চোরা স্রোত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির সঙ্গে কঠিন দরকষাকষিতে নেমেছেন ভারতের রাজনীতির দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। নাইডুর টিডিপি ও নীতীশের জেডিইউয়ের সমর্থন ছাড়া বিজেপির সরকার গঠন করা অসম্ভব।
কিন্তু কংগ্রেস পুরোনো মিত্র নাইডু ও নীতীশের দাবি-দাওয়া নরেন্দ্র মোদী কতটা মেনে নিতে পারবেন তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এরি মধ্যে নাইডু ও নীতীশকে ভেড়াতে কংগ্রেসও মাঠে নেমেছে।
২০১৪ সালে ভোটের ফলের ১০ দিন এবং ২০১৯ সালে সাতদিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। আর এবার ফলাফল ঘোষণার পাঁচদিন শপথ নেওয়ার প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে ইন্ডিয়া জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
মোদীর শপথ কেন আট তারিখে, বৈদিক জ্যোতিষ কী বলছে?
মোদীর ‘ঘর ভেঙে’ যেতে পারে যে সমীকরণে