পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে ২০১১ সালে প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস একঝাঁক তারকা প্রার্থী দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল। সেই পরীক্ষায় আনকোরা মুখগুলো রাজনীতির মাঠে বেশ সফলও হয়েছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারের নির্বাচনেও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপি এবং বামজোটও বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের পরিচিত মুখদের নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী তালিকায় এবারও বিনোদন দুনিয়ার দাপট লক্ষ্য করা গেছে। সোনারপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র, বরানগরে সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, মানিকতলায় শ্রেয়া পান্ডে এবং করিমপুরে জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী লড়ছেন। পরিচালকের চেয়ার ছেড়ে ব্যারাকপুর থেকে ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন রাজ চক্রবর্তী। গ্ল্যামার জগতের বাইরেও রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি ও চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেন রয়েছেন। এছাড়া প্রাক্তন ক্রিকেটার শিব শংকর পাল এবং ফুটবলার বিদেশ বসুর মতো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদেরও প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হেঁটেছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিবপুর কেন্দ্রে রুদ্রনীল ঘোষ, শ্যামপুরে হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং যাদবপুরে অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। রূপালি পর্দার এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ রূপা গাঙ্গুলী লড়ছেন সোনারপুর দক্ষিণ থেকে। এছাড়া সংগীতশিল্পী অসীম সরকার হরিণঘাটা থেকে এবং প্রাক্তন পেসার অশোক দিন্দা ময়না কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন। যদিও বামদলগুলি এই সেলিব্রিটি সংস্কৃতিতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কৌশলী প্রার্থী নির্বাচনে নজর কেড়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তারকা প্রার্থীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও প্রচারের ময়দানে তাদের দাপট চোখে পড়ার মতো। বছরের অন্য সময়ে এই তারকাদের সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে দেখা গেলেও, নির্বাচনের এই দিনগুলোতে তারা হয়ে যান ঘরের মানুষ। মেকআপ ছেড়ে তপ্ত রোদ আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা বাড়ি বাড়ি ভোট ভিক্ষা করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
সাধারণ মানুষের মধ্যে তারকাদের নিয়ে এক ধরনের সুপ্ত ক্ষোভ থাকলেও, প্রিয় নায়ক বা নায়িকাকে চোখের সামনে দেখে সেই ক্ষোভ অনেকটাই উচ্ছ্বাসে রূপ নেয়। ভোটারদের মধ্যে তারকাদের সাথে হাত মেলানো বা সেলফি তোলার যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো মূলত সেই আবেগকে পুঁজি করেই তাদের প্রার্থী করে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই প্রাথমিক আবেগ ও সান্নিধ্যই অনেক সময় তারকা প্রার্থীদের জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়। শেষ পর্যন্ত এই গ্ল্যামারের ম্যাজিক ব্যালট বক্সে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
