ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে ‘সন্ত্রাসী’ মন্তব্য করার অভিযোগে দেশটির নির্বাচন কমিশন বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কিরেণ রিজিজু এবং অর্জুন রাম মেঘওয়ালের নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ বেঞ্চের সাথে সাক্ষাৎ করে খাড়গের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কমিশন এই মন্তব্যকে নির্বাচনী আচরণবিধির সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাড়গের জবাব তলব করেছে।

বির্তকের সূত্রপাত: গত মঙ্গলবার তামিলনাড়ুতে এক সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে "সন্ত্রাসী" বলে সম্বোধন করেন। তিনি এআইএডিএমকে (AIADMK) দলের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন যে, সিএন আন্নাদুরাইয়ের আদর্শে বিশ্বাসী একটি দল কীভাবে বিজেপির সাথে জোট করতে পারে। খাড়গে বলেন, মোদী একজন সন্ত্রাসী। তাঁর দল সাম্য ও বিচারে বিশ্বাস করে না। যারা আন্নাদুরাই, কামরাজ বা আম্বেদকরের দর্শনে বিশ্বাসী, তারা মোদীর সাথে যুক্ত হওয়া মানেই গণতন্ত্রকে দুর্বল করা।
মল্লিকার্জুন খাড়গের ব্যাখ্যা: মন্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে খাড়গে পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে সন্ত্রাসী বলেননি, বরং মোদী সরকার যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখাচ্ছে, তাকেই ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন। ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দপ্তরের মাধ্যমে যে রেইড চালানো হচ্ছে, তা এক ধরনের ‘ট্যাক্স টেররিজম’। আমি বলতে চেয়েছি, মোদী এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছেন।

অমিত শাহের তোপ: খাড়গের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় দমদমে এক নির্বাচনী জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, যে নরেন্দ্র মোদী দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করেছেন, কংগ্রেস সভাপতি তাঁকে সন্ত্রাসী বলছেন। রাহুল গান্ধীর সান্নিধ্যে এসে খাড়গেজির ভাষারও অবক্ষয় ঘটেছে।
অন্যদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এই মন্তব্যকে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছেন। বিজেপি প্রতিনিধি দল মনে করে, এ ধরনের ভাষা গণতান্ত্রিক আলোচনার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের এই নোটিশের ফলে ভারতের নির্বাচনী উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
সূত্র: এনডিটিভি
