পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে আগামী ৯ মে শপথ নিতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হতে যাওয়া এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে।
১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার নিতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শনিবার সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন রাজ্য সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। বুধবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৯ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটিকে শপথ গ্রহণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইচ্ছা ও নির্দেশ অনুযায়ী।
নির্বাচন পরবর্তী ভাষণেই প্রধানমন্ত্রী কবিগুরুর ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ পংক্তিটি উদ্ধৃত করে এক নতুন ও নির্ভীক বাংলা গড়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন। রবীন্দ্র জয়ন্তীতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বিজেপির সেই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বার্তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। এই অভাবনীয় জয়ের ফলে রাজ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তৃণমূল সরকারের পতন ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের রায় রাজ্যের মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচনী প্রচারে ব্যারাকপুরের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন যে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি আবার রাজ্যে আসবেন। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থেই আগামী শনিবারের অনুষ্ঠানটি বড় আকারে আয়োজিত হচ্ছে।

ব্রিগেডের বিশাল ময়দানে কয়েক লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।
শমীক জানান, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনুষ্ঠানে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবহে এই নতুন সরকারের যাত্রা শুরু নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
