প্রতিবছর প্রায় ছয় থেকে নয় ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। ফলে পানির সংকট যেমন বাড়ছে তেমনি পানি উত্তোলনের খরচও বাড়ছে। আবার মাটির নিচে শূন্যস্থান তৈরি হওয়ায় ভূমি দেবে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানিও আর নিরাপদ থাকছে না অনেক সময়। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদীর দূষণ কমানোর বিকল্প নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
নদী-নালায় ভরপুর বাংলাদেশ তারপরও প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় মাটির নিচে থাকা পানি। হোক তা সুপেয় পানি অথবা কৃষি কাজে কিংবা শিল্প কারখানা সবখানেই ব্যবহার করা হয় এই ভূগর্ভস্থ পানি। একটা সময় পানির চাহিদা ছিলো কম ফলে মাটি নিচ থেকে পানি তোলা হলেও বৃষ্টি পানি সেই ক্ষতি অনেকটাই পূরণ করতে পারতো। এখন যেমন মানুষ বেড়েছে তেমনি বেড়েছে শিল্প কারখানা ফলে চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।

শুধুমাত্র ঢাকার জন্যই প্রতিদিন ২৫ লাখ কিউবেক মিটার পানি তোলা হয় মাটির নিচ থেকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব বলছে, গেলো ৫০ বছরে ঢাকার পানি স্তর আগের তুলনায় অন্তত ২৩০ ফুট নিচে নেমে গেছে।
ভূ-গর্ভস্থ পানি বিজ্ঞান পরিদপ্তরের পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ জানান, ঢাকার পানি স্তরের গভীরতা কমে যাওয়ায় এখন আশপাশের এলাকা থেকে ঢাকার দিকে পানি আসছে। শিল্প-কারখানাগুলো এখন সেই পানিও তুলে নিচ্ছে।
শুধু ঢাকা নয় দেশের দুই তৃতীয়াংশ এলাকাতেই মাটির নিচে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে পানির সংকট তৈরি হচ্ছে আবার ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার মাটি ডেবে যাবার আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানি তোলার যে প্রবণতা আমাদের আছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে, মাটি ডেবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে নদীর পানি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা । তবে সেজন্য আগে প্রয়োজন নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখা।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে পাস হচ্ছে বাজেট